প্রাণনাশের হুমকি ও ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হিরো আলমের মামলা
প্রাণনাশের হুমকি, প্রতারণা ও ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালতে তিনি এই মামলা করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে মামলাটির পরবর্তী অগ্রগতি এখন পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে।
মামলার প্রধান আসামি হিরো আলমের সাবেক স্ত্রী মোছা. সাথী খাতুন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন হিরো আলমের সহযোগী আহসান হাবিব সেলিম ও মো. মহিদুল ইসলাম। হিরো আলমের বয়স ৪০, সাথী খাতুনের ২২, সেলিমের ৩০ ও মহিদুলের ২৮ বছর বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
হিরো আলমের আইনজীবী সান্তা সাকছিনা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত হিরো আলমের জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি গ্রহণ করেছেন এবং পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক স্ত্রী সাথী খাতুন হিরো আলমের কাছে এসে তার মিউজিক ভিডিওতে কাজের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে সংসারের খরচ ও পোশাক কেনার জন্য তাকে অর্থ দেন হিরো আলম।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট সাথী খাতুনকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওই অর্থ ব্যাংকে জমা রাখার কথা সাথী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বীকারও করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গত ২২ আগস্ট ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যান হিরো আলম। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে যাওয়ার পর সাথী খাতুন মিউজিক ভিডিওর শুটিং ও সাজসজ্জার কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাথী খাতুনকে তালাক দেন হিরো আলম। তালাকের পর তিন আসামি মিলে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
চাঁদা না পেয়ে আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিরো আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনায় গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন হিরো আলম।
এ ছাড়া গত ১২ অক্টোবর আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি এসে হিরো আলমের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বিষপানের এবং বাদীকে জেলের ভাত খাওয়ানোর হুমকি দেন বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে মামলাটিতে অর্থ লেনদেনকে ঘিরে বিরোধ, তালাক-পরবর্তী চাঁদা দাবি এবং সামাজিক মাধ্যমে হুমকির অভিযোগ একসঙ্গে এসেছে। আদালতের নির্দেশে পিবিআই এখন এসব অভিযোগ তদন্ত করবে, আর সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ঠিক হবে মামলার পরবর্তী ধাপ।




