বিশাল রোজব্যাংক তেলক্ষেত্র নাকচের দিকে ঝুঁকছেন ব্রিটেনের জ্বালানিমন্ত্রী, জলবায়ু কর্মীদের সম্ভাব্য জয়
ব্রিটেনের জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহ বিশাল রোজব্যাংক তেলক্ষেত্র নাকচ করার দিকে ঝুঁকছেন বলে জানা গেছে। এমন সিদ্ধান্ত হলে তা উত্তর সাগরের জ্বালানি শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হলেও জলবায়ু কর্মীদের জন্য হবে বড় জয়।
কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানিমন্ত্রী এই ক্ষেত্রটির অনুমোদন দিতে অনিচ্ছুক, যেটি হতো উত্তর সাগরের অন্যতম বৃহত্তম ক্ষেত্র। ফানবুলেহ বুধবার অপেক্ষাকৃত ছোট জ্যাকড গ্যাসক্ষেত্রের অনুমোদন দিয়েছেন, যার পর সবুজ আন্দোলনের একাংশ প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তবে তিনি বলেছেন, জ্যাকডের পেছনের যুক্তি রোজব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাজ্য নেট জিরোর দিকে যাওয়ার পথে গ্যাসের ওপর নির্ভর করবে, আর সেই গ্যাস আমদানি না করে উত্তর সাগরের তুলনামূলক কম-কার্বন উৎস থেকে নেওয়াই ভালো।
তিনি বলেন, ‘একটি হলো গ্যাসক্ষেত্র, যা অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটায়; অন্যটি একটি তেলক্ষেত্র, যা মূলত রপ্তানির জন্য।’ তিনি আরও বলেন, প্রতিটি আবেদনকে তার নিজের যোগ্যতায় বিচার করাই সঠিক এবং সিদ্ধান্তটি জলবায়ু সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা, কার্বন বাজেট ও জ্বালানি রূপান্তরের গন্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কর্মকর্তারা বলছেন, ফানবুলেহ এখনো রোজব্যাংক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে এ বছরের শেষের দিকে রায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্ষেত্রটি জ্যাকডের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি কার্বন নির্গমন করবে, আর ফানবুলেহ মনে করেন এটি ব্রিটেনের জ্বালানি নিরাপত্তায় তেমন অবদান রাখবে না, কারণ এর বেশিরভাগ তেল রপ্তানি হয়ে যাবে।
অ্যাবারডিন সফরে জ্যাকডের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে গিয়ে ফানবুলেহ বলেন, তিনি সন্তুষ্ট যে জ্যাকড যুক্তরাজ্যের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করবে না। ক্ষেত্রটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস উৎপাদন শুরু করবে এবং আনুমানিক ৩ কোটি ৬০ লাখ টন কার্বন নির্গমন যোগ করবে।
তিনি বলেন, ‘রূপান্তরের পথে আমাদের গ্যাস লাগবে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত জ্বালানি সংকট তৈরি করছে এমন সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর দেশীয় জ্বালানিই এর চাবিকাঠি।’ তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এটি সরকারের মূল লক্ষ্য—বিল কমানো—অর্জনে সাহায্য করবে না; তাঁর ভাষায়, ‘এটা বিল নিয়ে নয়।’
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি সুপারিশ করেছে, জলবায়ু লক্ষ্য বিপর্যয়করভাবে ছাড়িয়ে যাওয়া এড়াতে আগামী চার বছরে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এবং এক দশকের মধ্যে প্রায় অর্ধেক কমাতে হবে।
ফানবুলেহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, উত্তর সাগর থেকে আসা ভবিষ্যৎ রাজস্ব একটি নতুন জ্বালানি সম্পদ তহবিলের মাধ্যমে সবুজ জ্বালানি প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। তিনি বলেছেন, বাজেটে এই তহবিলকে ২০০ কোটি পাউন্ড দেওয়া হবে, যার একটি অংশ তাঁর বিভাগের বাজেটের অন্য খাত থেকে সরিয়ে আনা হবে। তবে কোন কর রাজস্ব ঠিক এই তহবিলে যাবে বা তা থেকে কত আয় হবে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি; তাঁর ভাষায়, অর্থমন্ত্রী বাজেটে এসব বিস্তারিত পরিষ্কার করবেন।
লেবার পার্টির ২০২৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে উত্তর সাগরে নতুন খনন লাইসেন্সে নিষেধাজ্ঞার প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে জ্যাকড ও রোজব্যাংক প্রকল্পের পেছনের কোম্পানিগুলো বিদ্যমান লাইসেন্সের জন্য অনুমোদন চেয়েছে, আর এই বছর শুরুর দিকে তারা পরিবেশগত অনুমোদনের জন্য আবেদন আবার জমা দিয়েছে। সরকার বলেছে, অনুমোদনের পর জ্যাকড ক্ষেত্রটি মাসের শেষ থেকে বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে।
রোজব্যাংক অনুমোদন পাবে কি না, সে বিষয়ে কতটা আত্মবিশ্বাসী—জানতে চাইলে পরিকল্পনার পেছনের একটি কোম্পানি আদুরার প্রধান নির্বাহী নিল ম্যাককালক প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে বলেন, তাঁরা এখন খুব আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, একটি প্রক্রিয়া যে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে তা দেখা গেছে, তবে দুটি ক্ষেত্রকে আলাদাভাবে পরীক্ষা করা জ্বালানিমন্ত্রী ও তাঁর দলের বিষয়। তাঁর দাবি, রোজব্যাংকের ক্ষেত্রে তাঁরা জ্যাকডের মতোই ভালো যুক্তি উপস্থাপন করেছেন; ক্ষেত্রটি বড়, জ্যাকডের চেয়ে বেশি দিন চলবে, তাই চাকরি ও অর্থনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে মন্ত্রী তা বিবেচনায় নেবেন বলে তাঁর আশা।
জ্যাকডের ঘোষণা স্কটল্যান্ডের উত্তর-পূর্বে লেবারের অবস্থান শক্ত করতে পারে, যেখানে এই শিল্পের বড় অংশ অবস্থিত এবং ইউনিয়নগুলো অনুমতির জন্য জোর প্রচার চালিয়ে আসছে। তবে এটি কিছু লেবার এমপির মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যেসব আসনে তাঁরা গ্রিন পার্টির চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন। জলবায়ু গোষ্ঠী ই৩জির জন্য সাভান্তার একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার বলেছেন, উত্তর সাগরে আরও তেল খননের অনুমতি দিলে তাঁরা লেবারকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবেন—যার মধ্যে গত নির্বাচনে লেবারকে ভোট দেওয়া প্রায় ঠিক এক-তৃতীয়াংশ এবং ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রায় অর্ধেক রয়েছেন।





