লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের ফাঁদে হবিগঞ্জের তরুণরা, নিখোঁজ ৩৮ জন
সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার ৩৮ তরুণ লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের ফাঁদে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিদেশে ভালো কাজের আশায় যাত্রা করা এই তরুণদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার এই তরুণরা উন্নত জীবনের খোঁজে লিবিয়ার পথে পা বাড়িয়েছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কিংবা যাত্রাপথেই তাঁরা সংঘবদ্ধ মাফিয়া চক্রের কবলে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিখোঁজের সংখ্যা ৩৮ জন—এই তথ্যটিই ঘটনাটিকে জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এতজন তরুণ একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার খবরে হবিগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জানা গেছে, একপর্যায়ে তরুণদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে তাঁদের কারও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে স্বজনেরা দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তা আর আশঙ্কায়।
লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে চাওয়া অভিবাসীদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। এই পথে মানব পাচারকারী ও মাফিয়া চক্রগুলো অভিবাসীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে বলেও অতীতে বহুবার অভিযোগ উঠেছে।
হবিগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমান। বৈধ পথের পাশাপাশি দালালদের প্রলোভনে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ পথ বেছে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যার পরিণতি অনেক সময় এমন মর্মান্তিক হয়।
নিখোঁজ তরুণদের পরিবারগুলো এখন তাঁদের সন্ধান ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। স্বজনদের একটাই দাবি—যেকোনো উপায়ে যেন তাঁদের প্রিয়জনদের খোঁজ পাওয়া যায়।
এই ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে অবৈধ অভিবাসনের ভয়াবহ ঝুঁকির প্রশ্নটি। দালাল চক্রের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে সর্বস্ব খুইয়ে বিপজ্জনক পথে পা বাড়ানোর আগে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন সচেতন মহল।
নিখোঁজ ৩৮ তরুণের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁরা কোথায়, কী অবস্থায় আছেন—তা জানতে পরিবারগুলো অপেক্ষা করছেন।
ঘটনাটি নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে। আপাতত হবিগঞ্জজুড়ে নিখোঁজ তরুণদের পরিবারগুলোর অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠাই এই খবরের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।


