কুমিল্লায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ চার বগি লাইনচ্যুত: ঢাকামুখী লাইনে ট্রেন বন্ধ, গঠিত তদন্ত কমিটি
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাওটী স্টেশনের অদূরে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন ও চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ট্রেনের যাত্রীরা জানান, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের পর ট্রেনটি নাঙ্গলকোট স্টেশন ছেড়ে আসে। নাওটী স্টেশন পার হওয়ার পর ট্রেনটির ইঞ্জিন ও চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
যাত্রীদের ভাষ্য, অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন ট্রেনটির গতি বেশি ছিল বলে মনে হয়েছে তাঁদের। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
লাইনচ্যুত হওয়ার মুহূর্তে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে একাধিক যাত্রী মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। কয়েকজনের মাথা ফেটে যায়। হুড়োহুড়ি করতে গিয়েও কয়েকজন আহত হন।
আহত ব্যক্তিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে। ভাগ্যক্রমে এই দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর ট্রেনের অন্তত তিন শতাধিক যাত্রী বিভিন্ন পরিবহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। লাইনে আটকে পড়া যাত্রীদের বিকল্প যানে যাত্রা করতে হয়।
লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, রেললাইনে থাকা পাঁচটি বগি নাঙ্গলকোট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লাইনচ্যুত চারটি বগি ও একটি ইঞ্জিন উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন আসছে।
উদ্ধারকাজ শেষে লাইনচ্যুত বগি ও ইঞ্জিনও স্টেশনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উদ্ধার ও লাইন মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকামুখী লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে না।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এলেই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত উদ্ধারকাজ শেষ করে দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করাই রেলওয়ের সামনে প্রধান কাজ।






