তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ফের সাজেক সড়কে অবরোধের ঘোষণা
তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে আবারও অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত চলবে।
বুধবার সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই অবরোধের ঘোষণা দেন।
বিবৃতি অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে আবারও অবরোধ পালন করা হবে। নেতারা এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির অনুরোধে এবং সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতি মর্যাদা ও সম্মান জানিয়ে ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল।
তারও আগে ১১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু হলে ওই দিন বাঘাইহাট জোন ও প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ সাজেকবাসীর তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়। পরে অবরোধ স্থগিত করা হয়।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসন দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং শর্ত ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সেই কারণে ১৫ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে আবার অবরোধ পালন করা হয়, আর এবার আবার নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো।
দুই সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানগুলোতেই রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র গ্রুপের কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে সাজেকের মাচলং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সাধারণ জুমচাষিরা ভয়ে জুমে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কারের কাজে যেতে পারছেন না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এলাকার মানুষের জীবিকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে নেতারা জানিয়েছেন।
নেতারা বলেন, এলাকার জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষা এবং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতা বন্ধ করতে তাদের উল্লিখিত এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বিবৃতিতে সাজেকে ভ্রমণে থাকা পর্যটকদের আজকের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পর্যটননির্ভর এই এলাকায় অবরোধের সরাসরি প্রভাব পড়বে ভ্রমণ ও স্থানীয় ব্যবসার ওপর।
অবরোধ চলাকালে জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী ও সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন নজর থাকবে প্রশাসন তিন দফা দাবির বিষয়ে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, তার দিকে।






