জাতীয় দলে ফেরার আশা ছাড়ছেন না মোহাম্মদ শামি, ফিটনেস নিয়েও দিলেন স্পষ্ট বার্তা
ভারত জাতীয় দলে ফেরার আশা এখনো ছাড়েননি অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি। নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ঘোষিত ওয়ানডে ও টেস্ট দলে জায়গা না পেলেও নিজের সামর্থ্য নিয়ে তিনি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। দলে না থাকা মানেই হাল ছেড়ে দেওয়া নয় — এই মনোভাবই তিনি স্পষ্ট করেছেন।
দীর্ঘদিন চোটের সঙ্গে লড়াই করে মাঠে ফেরা শামির জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটই এখন নিজেকে প্রমাণের প্রধান মঞ্চ। রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে দিল্লির বিপক্ষে তিনি ৪ উইকেট নিয়েছেন। সেই পারফরম্যান্স তার ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে সার্ভিসেসের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তিনি খেলেননি। তা নিয়েই তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বাইরে থেকে অনেকে ধরে নেন, হয়তো তিনি পুরোপুরি ফিট নন বলেই ওই ম্যাচে মাঠে নামেননি।
সেই প্রশ্নের জবাব নিজেই দিয়েছেন শামি। তিনি জানান, স্পিন-সহায়ক উইকেটে পেসার হিসেবে বেশি ওভার বোলিং করার প্রয়োজন ছিল না তার। অর্থাৎ ম্যাচের পরিস্থিতি ও উইকেটের ধরনই ছিল সিদ্ধান্তের পেছনে, ফিটনেসের ঘাটতি নয়।
নিজের ফিটনেস নিয়ে শামি বলেন, ‘আমি এখনো নিজের সেরা ছন্দে আছি। ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলার কোনো মানে নেই।’ সরাসরি এই মন্তব্যে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার মনে কোনো সংশয় নেই।
জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও একই রকম স্পষ্ট তিনি। শামি বলেন, ‘আশা ছাড়ব কেন? আশা তো সব সময়ই থাকা উচিত। যেকোনো পেশা বা খেলায় একটা লক্ষ্য থাকা দরকার। আমারও সেই লক্ষ্য আছে।’
শামির এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে তার বড় মঞ্চের রেকর্ড। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ঘরের মাঠের সেই বিশ্বকাপে তার বোলিং ছিল ভারতের ফাইনালে ওঠার অন্যতম ভিত্তি।
জাতীয় দলের হয়ে তিনি সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। এর পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা, চোটের সঙ্গে লড়াই আর বয়স নিয়ে আলোচনা — সব মিলিয়ে অনেকের চোখে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় শুরু হয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু শামি নিজে সেই হিসাব মানতে নারাজ। আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ছন্দ ধরে রাখাই তার লক্ষ্য। প্রতিটি ম্যাচে ভালো করাকেই তিনি ভবিষ্যতের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তার যুক্তি সহজ — ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে আগাম ভাবনার চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলে। নির্বাচকদের নজর কাড়তে হলে উইকেট আর ধারাবাহিকতাই একমাত্র পথ, আর সেই পথেই হাঁটতে চান তিনি।
ভারতের পেস আক্রমণে এখন তরুণদের ভিড় বাড়ছে, প্রতিযোগিতাও কঠিন। তবু অভিজ্ঞতা আর বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতা শামির পক্ষে বড় যুক্তি হিসেবে রয়ে গেছে।
এখন দেখার বিষয়, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি নির্বাচকদের আবার ভাবতে বাধ্য করতে পারেন কি না। শামির নিজের ভাষায়, আশা তিনি ছাড়ছেন না — বাকিটা সময় আর তার বোলিংই বলে দেবে।





