গর্ভপাত আইন শিথিলে পোল্যান্ডের পার্লামেন্টে দুটি বিল পাস, ভেটোর হুমকিতে রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট
পোল্যান্ডের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির কঠোর গর্ভপাত বিধিনিষেধ শিথিল করতে দুটি বিল অনুমোদন করেছে। প্রায় তিন বছর আগে ক্ষমতায় আসার পর প্রজনন অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের জোট সরকারের জন্য এটি একটি বড় অগ্রগতি।
প্রথম বিলটি গর্ভপাতে সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়ার অপরাধকে অপরাধমুক্ত করবে — বর্তমানে এই অপরাধে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। দ্বিতীয় বিলটি ভ্রূণের গুরুতর ও অপরিবর্তনীয় ত্রুটি বা ভ্রূণের জীবনধারণে হুমকিস্বরূপ দুরারোগ্য অসুস্থতা শনাক্ত হলে গর্ভপাতের অধিকার পুনর্বহাল করবে। এটি পোল্যান্ডের প্রায়-সম্পূর্ণ গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার অন্যতম কঠোর দিককে বাতিল করবে।
ভোটের ফলাফলে প্রথম বিলটি ২১৭-২১৩ ভোটে এবং তিনটি ভোট বিরতিতে পাস হয়। দ্বিতীয় বিলটি পাস হয় ২৩৩-২০৩ ভোটে, একটি ভোট বিরতি নিয়ে। দুটি বিলই এখন নিম্নকক্ষ বা সেজম থেকে সিনেটে যাবে, যেখানে সেগুলো পাস হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
তবে বিল দুটির চূড়ান্ত ভাগ্য অনিশ্চিত। জাতীয়তাবাদী আইন ও বিচার (পিআইএস) দলের মিত্র প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাভরোতস্কি ২০২৫ সালে নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন, গর্ভপাত বিধি শিথিল করে এমন আইনে তিনি সই করবেন না। পাঁচ বছর আগে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দেওয়া গর্ভপাত কঠোরকরণের পেছনে যে দল ছিল, তারই ঘনিষ্ঠ তিনি।
প্রেসিডেন্টের ভেটো অকার্যকর করতে সেজমে তিন-পঞ্চমাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, যা টাস্কের নেতৃত্বাধীন জোটের নেই। তাই নাভরোতস্কি ভেটো দিলে বিল দুটি আটকে যাবে। সেজমের স্পিকার ওয়লোদজিমিয়েজ চারজাস্তি মঙ্গলবার ভোটের আগে বলেন, 'গর্ভপাত আইনে সই না করে প্রেসিডেন্ট মানুষের ক্ষতি করছেন।'
সরকারের সমতা কমিশনার ও বাম দলের আইনপ্রণেতা কাতারজিনা কোতুলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, 'রাষ্ট্র নারীদের বিশ্বাস করে। নিজের গর্ভপাত ঘটানো নারী ইতিমধ্যে ফৌজদারি শাস্তি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। এখন যারা আমাদের ভালোবাসেন, আমাদের নিয়ে চিন্তা করেন এবং আমাদের পছন্দকে সম্মান করেন, তাদের শাস্তি দেওয়া বন্ধের সময় এসেছে।'
তবু কোনো বিলই গর্ভাবস্থার ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী গর্ভপাতের অনুমতি দেবে না, যদিও ২০২৩ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় টাস্কের সিভিক কোয়ালিশন এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বহুদলীয় জোটে অনেক রক্ষণশীল রয়েছেন এবং এতদূর উদারীকরণে ঐকমত্য নেই।
প্রস্তাবগুলো দুই বছর ধরে একটি সংসদীয় কমিটিতে আটকে ছিল। ২০২৭ সালের শেষের দিকে নির্ধারিত পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের ১২ মাস আগে প্রচারণা জমে ওঠায় সেগুলো সামনে এসেছে।
নারী অধিকার সংগঠনগুলো এই বিলগুলোকে যুগান্তকারী বলে মানতে নারাজ। তাদের ভাষ্য, সংস্কারগুলো পোলিশ নারীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশে প্রচলিত গর্ভপাত সুবিধা দেওয়ার ধারেকাছেও যাবে না, যেখানে প্রথম তিন মাসে সাধারণত চাহিদা অনুযায়ী গর্ভপাত করা যায়।
'এখন যেসব নারীর গর্ভপাত দরকার, তাদের জন্য এর অর্থ কী? কিছুই না, কারণ এই প্রকল্পগুলোর কোনোটিই তাদের সাহায্য করবে না,' এক্সে লিখেছে লিগালনা আবোরচা (বৈধ গর্ভপাত) এনজিও।
শিক্ষামন্ত্রী বারবারা নোভাতস্কা পরিবর্তনের ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নারীদের সন্তান নেওয়া বা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত শর্তহীনভাবে নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবু তিনি বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
বিলগুলোতে আরও বলা হয়েছে, নারীর জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি কিংবা ভ্রূণের গুরুতর, অপরিবর্তনীয় অবস্থার কারণে গর্ভপাত ঘটালে চিকিৎসক, নার্স ও ধাত্রীদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। আইনসম্মত গর্ভপাত দিতে হাসপাতালগুলোর জন্য সময়সীমা নির্ধারণ এবং প্রত্যাখ্যানের লিখিত ব্যাখ্যা বাধ্যতামূলক করার বিধানও রয়েছে।
টাস্কের জোট সরকার সম্ভবত প্রেসিডেন্ট ও পিআইএসের ওপর চাপ বাড়াতেই থাকবে, যদি নাভরোতস্কি উদারীকরণ আটকে দেন, যেমনটি তিনি করবেন বলে জানিয়েছেন।






