হুথি হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বেসামরিক স্থাপনা রক্ষায় যুদ্ধবিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান উপসাগরীয় এই রাজতন্ত্রে মোতায়েন করা হবে। তবে লন্ডন স্পষ্ট করে বলেছে, বিমানগুলো কেবল প্রতিরক্ষামূলক কাজেই ব্যবহার করা হবে।
ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন থেকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। চলতি মাসের শুরুতেই তারা সৌদি আরবের তিনটি বিমানবন্দরে সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং যুক্তরাজ্যের মিত্রের ওপর এই অব্যাহত হামলাকে ‘একেবারেই ঘৃণ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলাটি দেখিয়ে দিয়েছে, অঞ্চলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে হুথিরা কত দূর যেতে পারে। এই মাসের শুরুর দিকের ওই হামলাগুলোতে ১৪ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।
স্ট্রিটিং জানান, পাঠানো যুদ্ধবিমানগুলো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সৌদি আকাশসীমা রক্ষায় কাজ করবে। যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য একটি অ্যাটলাস এ৪০০এম বিমান এবং সামরিক উপদেষ্টাও পাঠাবে।
তিনি আরও বলেন, এই মোতায়েন হুথি বিমান হামলা প্রতিরোধে সৌদি আরবে আগে থেকেই থাকা যুক্তরাজ্যের সরঞ্জাম ও জনবলের ওপর ভিত্তি করেই করা হচ্ছে। অর্থাৎ, সৌদি আরবে ব্রিটিশ সামরিক উপস্থিতি আগে থেকেই ছিল; নতুন সিদ্ধান্তে সেই উপস্থিতি আরও জোরদার হলো।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পারস্য উপসাগরের এই সংঘাতের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির যোগসূত্রও টেনেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে তার প্রভাব ব্রিটেনের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়ে, তাই সৌদি স্থাপনা রক্ষা করা যুক্তরাজ্যের নিজের স্বার্থের সঙ্গেও যুক্ত।
জুলাইয়ে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি সৌদি আরবকে আরও বেশি সমর্থনের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোকে মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহের (এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং) অনুরোধে সম্মতি দিয়েছিলেন।
এর আগে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৯টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সৌদি আরবের প্রতি পশ্চিমা সমর্থনের এই প্রেক্ষাপটেই এবার ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা এলো।
ঘোষণায় অবশ্য আবারও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, টাইফুন বিমানগুলোর ভূমিকা হবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক—আক্রমণাত্মক কোনো অভিযানে এগুলো অংশ নেবে না। ফলে হুথিদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ব্রিটিশ বিমান মোতায়েনের পর সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে অঞ্চলটির।



