স্বাস্থ্য খাতে দুই বড় পরিকল্পনা: পাঁচ জেলায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার, বিএমইউতে মাসে চারটি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য
দেশের চিকিৎসাসেবায় দুটি বড় উদ্যোগের ঘোষণা এসেছে। একদিকে ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি জেলায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) প্রতি মাসে চারটি করে লিভার প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জটিল রোগের চিকিৎসায় রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউক্লিয়ার মেডিসিন আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিশেষায়িত শাখা, যেখানে তেজস্ক্রিয় উপাদান ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের রোগ শনাক্ত করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসাও দেওয়া হয়। ক্যানসার, থাইরয়েড, হৃদ্রোগ ও কিডনির জটিল রোগ শনাক্তে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে।
বর্তমানে দেশে এই সেবা সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেই পাওয়া যায়, ফলে জেলা পর্যায়ের রোগীদের ঢাকায় ছুটতে হয় কিংবা বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবতে হয়। পাঁচ জেলায় নতুন সেন্টার হলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচও সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
অন্যদিকে লিভার প্রতিস্থাপন দেশের চিকিৎসা খাতের সবচেয়ে জটিল অস্ত্রোপচারগুলোর একটি। যকৃতের শেষ পর্যায়ের রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকে এতদিন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হতো, যার খরচ বহু পরিবারের সাধ্যের বাইরে। বিএমইউতে মাসে চারটি করে প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই রোগীদের একটি বড় অংশ দেশেই চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
লিভার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দক্ষ সার্জন দল, নিবিড় পরিচর্যা এবং অঙ্গদাতা ব্যবস্থাপনা— সবকিছুর সমন্বয় জরুরি। নিয়মিত ভিত্তিতে মাসে চারটি প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য ঠিক করা মানে সেই সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিশেষায়িত চিকিৎসাকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
স্বাস্থ্য খাতের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বড় প্রকল্প ঘোষণার পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি ও যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণের দিকেও সমান নজর দিতে হবে, নইলে অতীতের মতো অনেক উদ্যোগই কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারে না। অতীতে জনবল সংকট ও যন্ত্রপাতি অচল থাকায় রোগীদের দুর্ভোগের খবর বারবার সামনে এসেছে।
৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি ও কোন পাঁচ জেলায় সেন্টারগুলো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা এলে চিত্রটি আরও পরিষ্কার হবে।
সব মিলিয়ে, জেলা পর্যায়ে আধুনিক রোগশনাক্তকরণ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া আর রাজধানীতে জটিল অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা বাড়ানো— দুই দিক থেকেই এই দুটি পরিকল্পনাকে স্বাস্থ্য খাতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা বাস্তবায়নের গতি ও মানের।





