পূজা দেখতে বেরিয়ে যশোরে অটোভ্যান-নসিমন সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিশু ভাইবোনের
দুর্গাপূজার আনন্দের সন্ধ্যায় যশোরের ঝিকরগাছায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু ভাইবোন। বাবা-মায়ের সঙ্গে পূজা দেখতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি শোভন ও দিশার। সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় কাউন্সিল রোডে। যাত্রীবাহী একটি অটোভ্যানের সঙ্গে একটি নসিমনের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুই শিশু। নসিমনটি গরু বহন করছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত দুই শিশু উপজেলার মিশ্রীদেয়াড়া গ্রামের সাধন কুমারের সন্তান। ছেলে শোভনের বয়স ১০ বছর, মেয়ে দিশার বয়স মাত্র তিন বছর। বাবা সাধন কুমার যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষক।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে দুর্গাপূজামণ্ডপের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন সাধন কুমার। উৎসবের দিনে সন্তানদের নিয়ে মণ্ডপে ঘোরার সেই যাত্রাই তাদের পরিবারের জন্য শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়।
পথে যাত্রীবাহী ভ্যানের সঙ্গে গরু বহনকারী নসিমনের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শোভন ও দিশা। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এই ঘটনায় নসিমনের চালক ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুদের বাবা-মা ও ভ্যানচালক আহত হলেও তাঁরা সুস্থ আছেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন নসিমনচালক আব্দুল মজিদ, বয়স ৪৫ বছর।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। উৎসবের সন্ধ্যায় হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থলজুড়ে তখন স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর ভিড়।
দুই সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে পরিবারটিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শোকাহত স্বজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। যে বাড়িতে পূজার আনন্দে মুখর থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন কান্নার রোল।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশু দুটির বাবা-মা ও ভ্যানচালক আহত হলেও তাঁরা সুস্থ আছেন।
ওসি আরও জানান, নিহত দুই শিশুর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, এরপরই তাদের শেষকৃত্যের আয়োজন করা যাবে।
উৎসবের মৌসুমে সড়কে যানবাহনের চাপ ও চলাচল বাড়ে, আর সেই সময়েই এমন দুর্ঘটনা পরিবারগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে। ছোট যান অটোভ্যান ও নসিমনের মতো যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের ঝুঁকি নিয়ে এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে।
আপাতত পুরো এলাকার মনোযোগ নিহত দুই শিশুর পরিবারের দিকেই। আহতদের চিকিৎসা চলছে, আর স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন মরদেহ হস্তান্তরের। পূজা দেখতে বেরিয়ে প্রাণ হারানো শোভন ও দিশার এই মৃত্যু ঝিকরগাছার মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকবে।




