সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডিদের চুক্তির বাকি মেয়াদ বাতিল করল সরকার
রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংক সোনালী, জনতা ও রূপালীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পদে একসঙ্গে এই পরিবর্তন ব্যাংক খাতে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যাঁদের নিয়োগ বাতিল হয়েছে, তাঁরা হলেন সোনালী ব্যাংকের মো. শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংকের মো. মজিবর রহমান এবং রূপালী ব্যাংকের কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। তিনজনই চুক্তিভিত্তিতে এই পদগুলোতে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জনতা ও রূপালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে সরকারের সম্মতির বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে চুক্তির শর্ত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মো. শওকত আলী খান ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁকে তিন বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁর চুক্তির অবশিষ্ট অংশ বাতিল হলো।
সোনালী ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে মো. শওকত আলী খান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের।
অন্যদিকে কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম তিন বছরের চুক্তিতে রূপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তিনিও মেয়াদ শেষের আগেই পদ ছাড়ছেন সরকারের এই সিদ্ধান্তে।
মো. মজিবর রহমান জনতা ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিন ব্যাংকের ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্তটি একই দিনে, একই প্রক্রিয়ায় কার্যকর করা হয়েছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে এটি একটি সমন্বিত সরকারি সিদ্ধান্ত।
তিন ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের পর এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন এমডি নিয়োগ কিংবা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি সেই প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
সোনালী, জনতা ও রূপালী—এই তিনটি ব্যাংকই রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক খাতের প্রধান প্রতিষ্ঠান। দেশজুড়ে এদের বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং সরকারি লেনদেনসহ সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেবার বড় অংশই চলে এই ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ফলে শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম ও নীতিগত সিদ্ধান্তেও।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপনে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হলেও এই পদক্ষেপের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। ব্যাংক তিনটির পরিচালনা পর্ষদ এখন চুক্তির শর্ত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
এখন নজর থাকবে পরের ধাপের দিকে: তিন ব্যাংকে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কারা আসছেন, কবে নাগাদ সেই নিয়োগ চূড়ান্ত হচ্ছে এবং অন্তর্বর্তী সময়ে ব্যাংকগুলোর নেতৃত্ব কারা দিচ্ছেন। সেই সিদ্ধান্তগুলো এলেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক খাতের নতুন নেতৃত্বচিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।




