ঘাটতি পূরণে সাত প্রতিষ্ঠানকে এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিল বিএসইসি, চারটির কার্যক্রম চলবে
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সাতটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ও আইনগত ঘাটতি নিরসন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান পরিপালনের জন্য ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছে। একই সঙ্গে চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১ হাজার ৩৫তম জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও বিধি পরিপালনের অবস্থা পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
যে চারটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাদের নিট সম্পদ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং কয়েকটি মূল্যায়ন সূচকে তারা সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে বলে বিএসইসি জানিয়েছে।
কার্যক্রম চালু থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি স্টক ব্রোকার — প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড ও অ্যাভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। বাকি দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার — পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
অন্যদিকে সাতটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিট সম্পদসহ সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান পরিপালনে ঘাটতি পাওয়া গেছে। সেই ঘাটতি নিরসনের জন্যই তাদের নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সময় পাওয়া সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি স্টক ব্রোকার — প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড এবং পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
তালিকায় আরও রয়েছে দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার — আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এবং একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি — প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানকে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আর্থিক ঘাটতি নিরসন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া সভার সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে, এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের নিট সম্পদের ঘাটতি নিরসন ও প্রয়োজনীয় বিধিবিধান পরিপালনের জন্য আগে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তার সঙ্গে ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর নিট সম্পদ ও বিধি পরিপালনের প্রশ্নটি সরাসরি জড়িত। ঘাটতিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই নজরদারি তাই বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সময়সীমা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেদিকে নজর থাকবে বাজারসংশ্লিষ্টদের।
বিএসইসির এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা আরও এক ধাপ এগোল। আগামী মাসগুলোতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই বোঝা যাবে, সময়সীমাটি কতটা কাজে লাগছে।



