মেক্সিকো উপকূলে দুর্বল হয়ে ঝড়ে রূপ নিল ‘ট্রুডি’, গ্রিসের বন্যায় প্রাণহানি, ইস্তাম্বুলে মৃত ৫
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ট্রুডি’ মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছে এসে দুর্বল হয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ে গ্রিসে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, যাতে একজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে; তুরস্কের ইস্তাম্বুলেও বন্যায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
আটলান্টিকের তুলনামূলক শান্ত ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের বিপরীতে প্রশান্ত মহাসাগরে ধারাবাহিক সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। ‘ট্রুডি’ ছিল এই মৌসুমের ২২তম নামকরণ করা আবহাওয়া ব্যবস্থা এবং সর্বশেষ সংযোজন। ক্যাটাগরি ২ মাত্রার এই ঘূর্ণিঝড়টি মেক্সিকো উপকূল থেকে প্রায় ১০০ মাইল (১৬০ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল, ফলে সবচেয়ে খারাপ অবস্থাটা সাগরেই থেকে যায়।
তবু সতর্কতা জারি ছিল পুরোদমে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার হালিসকো, মিচোয়াকান ও কোলিমা রাজ্যের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা জারি করেছিল; রোববার এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৯০ মাইল বেগের টানা ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
এসব এলাকায় ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতাও জারি করা হয়। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম মেক্সিকোর উপকূলে স্থলমুখী বাতাসের এলাকাগুলোতে ক্ষতিকর ঢেউসহ বিপজ্জনক জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকির কথাও জানানো হয়।
সোমবার সকালে ‘ট্রুডি’ দুর্বল হয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে অবনমিত হয় এবং উপকূলীয় সতর্কতাগুলো প্রত্যাহার করা হয়। অর্থাৎ সরাসরি আঘাত হানার আগেই শক্তি হারিয়ে উপকূলের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসে ঝড়টি।
এদিকে গ্রিসে গত সপ্তাহে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ে রোডস, এভিয়া ও স্পোরাডেস দ্বীপপুঞ্জজুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এথেন্সের ন্যাশনাল অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, রোডসের একটি স্টেশনে ১৪ অক্টোবর ভোর ৩টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৫০ মিনিট (ইউটিসি) পর্যন্ত সময়ে ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।
বন্যার কারণে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকে ৩০টিরও বেশি উদ্ধার ও আটকে পড়াদের বের করে আনার অভিযান চালাতে হয়েছে। গ্রিসের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ঝড়ের সময় চারটি যাত্রীবাহী যানবাহন সাগরে ভেসে গেছে; স্কিয়াথোস দ্বীপে বন্যার পানি দুটি গাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
তুরস্কেও গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে ইস্তাম্বুলে। ১৪ ও ১৫ অক্টোবরের ভারী বৃষ্টিতে কয়েকটি প্রদেশে স্কুল বন্ধ, ফ্লাইট বিলম্ব, বিঘ্নজনক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুল প্রদেশের বেইকোজ জেলায় ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আটকে পড়া প্রায় ৬০০ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত ২ হাজার ৭০০ মানুষকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও দেশের ডজনখানেক প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের নতুন সতর্কতা জারি করেছে; মারমারা ও পশ্চিম কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের কিছু অংশে আরও ৪০ থেকে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, একই সপ্তাহে তিন দেশে আবহাওয়ার এই চরম রূপ জলবায়ু ঝুঁকির ক্রমবর্ধমান চিত্রই তুলে ধরল।



