ব্রিটেনে প্রথমবার বাড়ি কিনে ভাড়ার চেয়েও বেশি গুনতে হচ্ছে অধিকাংশ ক্রেতাকে
ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনা মানুষদের অধিকাংশের জন্যই এখন ভাড়া বাসা ছেড়ে নিজের বাড়িতে ওঠা মানেই মাসের খরচ কমা নয়, বরং বেড়ে যাওয়া। আবাসন সংস্থা হ্যাম্পটনসের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, গত মাসে প্রথমবারের ক্রেতাদের ৫৬ শতাংশই বলেছেন, তাঁদের মাসিক বন্ধকি বা মর্টগেজের কিস্তি আগের ভাড়ার চেয়ে বেশি পড়ছে। অন্তত এক দশকের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ অনুপাত।
গবেষণা অনুযায়ী, এই ক্রেতারা গড়ে আগের ভাড়ার চেয়ে মাসে ৩৯ পাউন্ড বেশি দিচ্ছেন বন্ধকির কিস্তি হিসেবে। আগে কম সুদের যুগে হিসাবটা ছিল উল্টো — ভাড়া দেওয়ার বদলে কিস্তি দিলে প্রতি মাসে কিছুটা সাশ্রয় হতো বলেই অনেকে দ্রুত বাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকতেন। সেই সাশ্রয়ের যুক্তিটাই এখন অনেকের ক্ষেত্রে হারিয়ে গেছে।
হ্যাম্পটনস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্রিটেনে বন্ধকির সুদের হার বাড়ছে। বন্ড বাজারের অস্থিরতা সোয়াপ রেট বাড়িয়ে দিয়েছে, আর সেই সোয়াপ রেটের ওপর ভর করেই নির্ধারিত হয় স্থির হারের বন্ধকির দাম। ফলে বাজারের অস্থিরতার চাপ সরাসরি এসে পড়েছে সাধারণ ক্রেতার মাসিক কিস্তিতে।
চলতি মাসের শুরুতেই পাঁচ বছর মেয়াদি স্থির হারের বন্ধকির গড় সুদ তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৬ শতাংশের সীমা ছুঁয়েছে। সোমবার সকালে সেই গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ, আর দুই বছর মেয়াদি স্থির হারের গড় ছিল ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ — আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মানিফ্যাক্টসের তথ্য এমনটাই বলছে।
হ্যাম্পটনসের গবেষণা প্রধান আনেইশা বেভারিজ বলেছেন, সুদের হার যখন কম ছিল, তখন ভাড়াটিয়াদের পক্ষে যত দ্রুত সম্ভব কেনার আর্থিক যুক্তিটা ছিল বেশ সোজা। তাঁর কথায়, বেশি বন্ধকি হার সেই সমীকরণটাই উল্টে দিয়েছে। বাড়ির মালিক হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা — সম্পদ গড়া, বেশি নিরাপত্তা এবং একসময় পুরোপুরি নিজের বাড়ি পাওয়া — এখনো আছে, কিন্তু ভাড়া থেকে কেনায় গেলেই প্রতি মাসে যে তাৎক্ষণিক সাশ্রয় মিলত, তা এখন অনেকটাই উধাও।
বয়সভেদে এই চাপের তারতম্যও স্পষ্ট। চল্লিশের কোঠায় থাকা প্রথমবারের ক্রেতারাই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন — তাঁদের ৬৭ শতাংশই এমন বন্ধকি নিয়েছেন, যার কিস্তি আগের ভাড়ার চেয়ে বেশি। গড়ে তাঁদের মাসিক আবাসন খরচ ভাড়ার তুলনায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ভাড়ার বাজারও থেমে নেই। গ্রেট ব্রিটেনজুড়ে নতুন করে সম্মত ভাড়া সেপ্টেম্বরে বার্ষিক হিসাবে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রায় দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি। দেশজুড়ে গড় ভাড়া এখন মাসে ১ হাজার ৪৩৩ পাউন্ড, গত বছরের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ১ হাজার ৩৯৬ পাউন্ড।
লন্ডনে চাপ আরও বেশি। গ্রেটার লন্ডনে নতুন ভাড়ার গড় মাসে ২ হাজার ৩৫৭ পাউন্ড, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইংল্যান্ডের দক্ষিণে — সেখানে গড় ভাড়া ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪১৯ পাউন্ডে।
বেভারিজের মতে, এ বছর বেশি ভাড়ার চাপটা মূলত অনুভব করেছেন যাঁরা বাসা বদল করেছেন তাঁরাই। কিন্তু বৃদ্ধির এই গতি চলতে থাকলে আগামী মাসগুলোতে তা বিদ্যমান ভাড়াটিয়াদের ওপরও এসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ নতুন ও পুরোনো ভাড়ার ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে।
সব মিলিয়ে ব্রিটেনে আবাসনের হিসাব এখন দুই দিক থেকেই কঠিন — ভাড়া থাকলেও খরচ বাড়ছে, আবার কিনতে গেলেও কিস্তি ভাড়াকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে অনেকের ক্ষেত্রে। দীর্ঘমেয়াদে মালিকানার সুবিধা থাকলেও মাসের শেষে পকেটের ওপর চাপটাই এখন প্রথমবারের ক্রেতাদের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।






