কোনাবাড়ীতে ঝুটের গোডাউনে আগুন, দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনল ফায়ার সার্ভিস
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় একটি ঝুটের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার রাতে লাগা এই আগুন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে ততক্ষণে গোডাউনে মজুত থাকা সব ঝুট পুড়ে গেছে।
রবিবার ১৮ অক্টোবর রাত পৌনে ৮টার দিকে মহানগরীর আমবাগ ঈদগাহ মাঠের উত্তর-পূর্ব পাশে অবস্থিত গোডাউনটিতে আগুন লাগে। গোডাউনটিতে বিপুল পরিমাণ ঝুট মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকাবাসী জানান, আগুন দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
রাত সোয়া ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। গোডাউনে থাকা সব ঝুট পুড়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি।
ঝুট অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় এ ধরনের গোডাউনে আগুন লাগলে তা দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। এবারের ঘটনায়ও মজুত ঝুটের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল বলে এলাকাবাসীর ভাষ্য থেকে বোঝা যায়।
ঘটনাস্থল আমবাগ ঈদগাহ মাঠের পাশে জনবসতির কাছাকাছি হওয়ায় আগুন লাগার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন আশপাশের কোনো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতি আর এলাকাবাসীর তৎপরতায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আগুন লাগার পরপরই খবর দেওয়ায় ইউনিট দুটি সময়মতো পৌঁছাতে পেরেছিল।
এই ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রাতের বেলা গোডাউনটিতে লোকজন না থাকায় প্রাণহানির ঝুঁকি কম ছিল।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা তদন্তের পর জানা যাবে। বৈদ্যুতিক গোলযোগ নাকি অন্য কোনো কারণ, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিল্প এলাকা গাজীপুরে ঝুটের গোডাউন ও কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। দাহ্য পদার্থ মজুতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন প্রতিটি ঘটনার পরই নতুন করে ওঠে।
এবারের ঘটনার পরও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে। গোডাউনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে।




