টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানায় আগুন: পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন ফায়ার সার্ভিসের
গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ অনুসন্ধান করাই এই কমিটির মূল কাজ।
রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহিন আলম তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানান। তিনি জানান, কমিটি সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের কাজ শুরু করবে।
কমিটির প্রধান করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানকে। তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখবে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টার দিকে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় অবস্থিত কারখানাটির ইউনিট-২-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একের পর এক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট ২১টি ইউনিট কাজ করে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।
আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর কারখানাটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই কারখানাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
অগ্নিকাণ্ডের পরদিন ১৫ অক্টোবর কারখানা কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ রাখার নোটিশ দেয়। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটে উৎপাদন কার্যক্রম আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেও রাজি হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানেই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় উঠে আসবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওষুধ কারখানার মতো সংবেদনশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। তদন্ত প্রতিবেদনে কারখানাটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির কাজ শুরু হওয়ার পর এর প্রতিবেদনের দিকেই এখন নজর থাকবে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আগুনের সূত্রপাত ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।


