বোমা হামলার হুমকিতে বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ করল ইসরায়েল থেকে আসা বিমান
বোমা হামলার হুমকি পেয়ে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে তেল আবিব থেকে ভিয়েনাগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান। অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ওএস৮২-এর ক্রুরা রুমানিয়া সীমান্তের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় হুমকিটি পান বলে জানিয়েছে বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এয়ারবাস এ৩২০ বিমানটি ভিয়েনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। হুমকি পাওয়ার পর ক্রুরা গন্তব্য বদলে সোফিয়ায় অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। আকাশে থাকা অবস্থাতেই জরুরি পরিস্থিতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানটিকে সোফিয়া বিমানবন্দর পর্যন্ত পাহারা দিয়ে নিয়ে যায় দেশটির বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান। অর্থাৎ হুমকিটিকে কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ছয়জন ক্রু সদস্য ও ৫১ জন যাত্রী ছিলেন। অবতরণের পর তাঁদের সবাই বিমান থেকে নেমে গেছেন বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, বিমানটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। তল্লাশি শেষ হলে যাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ফ্লাইটে পুনরায় বুকিং দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
ঘটনার পর একটি সংকট মোকাবিলা দল গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়। হুমকিটি কোথা থেকে এবং কীভাবে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিমান চলাচল ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ৮২ নম্বর ফ্লাইট রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে (১৫:৪৬ জিএমটি) তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর ছেড়ে যায় এবং প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে (১৮:৪৩ জিএমটি) সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যে দেখা গেছে, বিমানটি রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে (১৮:১০ জিএমটি) রুমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে, এরপর দক্ষিণে মোড় নিয়ে বুলগেরিয়ার দিকে ফিরে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় একই সময়ে বিমানটি ৭৭০০ স্কোয়াক কোড সম্প্রচার করছিল—যা সাধারণ জরুরি অবস্থার সংকেত।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইসরায়েলমুখী ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিয়ে এমনিতেই উদ্বেগ রয়েছে। গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন; অভিযোগ উঠেছে, ওই ফ্লাইটের সহকারী পাইলট কুড়াল দিয়ে পাইলটের ওপর হামলা করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।
ওই ঘটনায় বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট (৫ হাজার ১৮০ মিটার) নিচে নেমে গিয়েছিল; পরে যাত্রী ও অন্য ক্রুরা অভিযুক্তকে কাবু করলে অন্য পাইলটরা বিমানটি আবার নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফ্লাইটটি পথ বদলে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।
আমিরাত কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সহকারী পাইলট ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমান বিধ্বস্ত করার 'আত্মঘাতী' মিশনে ছিলেন। ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে পরে আমিরাতে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই ঘটনার পর ইসরায়েল সরকার দেশটিতে আসা সব পাইলটের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়।
সোফিয়ার ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হুমকির প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আপাতত তল্লাশি শেষে যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে পৌঁছে দেওয়াই এয়ারলাইন ও বুলগেরীয় কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার।






