ছেলে প্রেসলির মৃত্যুতে ‘শোকে ভেঙে পড়েছেন’ সুপারমডেল সিন্ডি ক্রফোর্ড
ছেলে প্রেসলি গারবারের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন সুপারমডেল সিন্ডি ক্রফোর্ড ও তার পরিবার। রোববার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় ক্রফোর্ড লিখেছেন, তারা ‘শোকে ভেঙে পড়েছেন’। ছেলের একটি সাদাকালো ছবির পাশে তিনি লিখেছেন, ‘সে এক মিষ্টি, সুন্দর আত্মা, যে ভালোবাসত এবং ভালোবাসা পেত — এখন এবং চিরকাল।’
২৭ বছর বয়সী প্রেসলি গারবার গত ২০ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, তার মৃত্যু অতিরিক্ত মাদক সেবনের সন্দেহে তদন্ত করা হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল পরীক্ষকের তালিকায় মামলাটি ‘অতিরিক্ত তদন্ত সাপেক্ষে বিচারাধীন’ হিসেবে রয়েছে। সান্তা মনিকা পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, এই মৃত্যুতে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা বা হত্যাচেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
মায়ের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে প্রেসলির জন্ম ও মৃত্যুর তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রফোর্ড লিখেছেন, ‘আমরা গর্বিত, সে যেভাবে দয়া আর নিজের দুর্বলতা প্রকাশের সাহস নিয়ে পৃথিবীতে নিজেকে উপস্থাপন করেছে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘প্রেসলিকে ২৭ বছর আমাদের জীবনে পেয়ে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি।’
পরিবারের পক্ষ থেকে শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। ক্রফোর্ড লিখেছেন, ‘পরিবারকে যারা চেনেন ও ভালোবাসেন, এমনকি আমাদের যন্ত্রণা অনুভব করা অপরিচিতদের কাছ থেকেও যে ভালোবাসা ও সমর্থনের ঢল এসেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ বার্তাটি তিনি শেষ করেছেন ফেরেশতার ডানার ইমোজি দিয়ে — ‘আবার দেখা হবে, আমাদের মিষ্টি ছেলে। আমরা তোমাকে চিরকাল ভালোবাসি — মা, বাবা ও কায়া।’
প্রেসলি নিজেও ছিলেন মডেল — মা সিন্ডি ক্রফোর্ড এবং ছোট বোন কায়া গারবারের মতোই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইতালীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড মস্কিনোর হয়ে রানওয়েতে অভিষেক হয়েছিল তার। পরিবারের সঙ্গে তোলা ছবিতে তাকে মা, বাবা র্যান্ডে গারবার ও বোন কায়ার সঙ্গে দেখা গেছে।
বোন কায়া গারবারও রোববার ভাইয়ের স্মরণে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে রয়েছে শৈশবে দুই ভাইবোনের একসঙ্গে নাচের ভিডিও, সমুদ্রের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি এবং নীল পটভূমিতে টাইপ করা চার পৃষ্ঠার একটি চিঠি, যেখানে তিনি ভাইকে ‘প্রেজ’ বলে সম্বোধন করেছেন।
চিঠিতে শৈশবের এক স্পর্শকাতর স্মৃতি তুলে ধরেছেন কায়া। তিনি লিখেছেন, কান ফোঁড়াতে তার ভয় লাগছিল, তাই ভাই আগে নিজে ফুঁড়িয়ে নিয়েছিল। তারপর লিখেছেন, ‘কিন্তু তোমার শরীর থেকে খোলা কানের দুলটি যখন হাতে ধরলাম, শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছিল: এটা তোমার।’
চিঠির আরেক অংশে কায়া লিখেছেন, ‘আমি শিখছি কীভাবে তোমাকে ভালোবাসতে হয়, যখন তোমাকে দেখতে পাই না। কীভাবে ফোন তুলে তোমাকে কল না করে মনের কথা বলতে হয়। কীভাবে এমন এক পৃথিবীতে তোমার বোন হতে হয়, যেখানে হাত বাড়িয়ে তোমাকে ছুঁতে পারি না।’ বোনের এই কথাগুলো পরিবারটির শোকের গভীরতা স্পষ্ট করে তোলে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসলি নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের সংগ্রাম ও মাদক ব্যবহার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি নিজে ভিডিও পোস্ট করতেন, যাকে তিনি বলতেন ‘মেন্টাল হেলথ মানডেজ’। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে বলার মধ্য দিয়ে একই ধরনের সমস্যায় থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা ছিল তার।
প্রেসলির বাবা র্যান্ডে গারবার একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী। তিনি জর্জ ক্লুনির সঙ্গে মিলে কাসামিগোস টেকিলা ব্র্যান্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা। ফ্যাশন ও ব্যবসা — দুই জগতেই পরিবারটি আলোচিত, তাই ছেলের অকালমৃত্যুর খবরে শুভাকাঙ্ক্ষী মহলে শোকের ছায়া নেমেছে।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। মেডিকেল পরীক্ষকের দপ্তর অতিরিক্ত তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে, আর পুলিশ সন্দেহভাজন অতিরিক্ত মাদক সেবনের দিকটি খতিয়ে দেখছে। তদন্তের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পরিবারটির পক্ষ থেকে আর কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
২৭ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে প্রেসলি গারবার রানওয়ের ঝলকের পাশাপাশি নিজের মানসিক স্বাস্থ্য সংগ্রাম নিয়েও পরিচিত ছিলেন। মা ও বোনের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে সেই ছেলেটির কথাই ফিরে ফিরে এসেছে — যে দয়া আর স্পষ্টবাদিতা দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছতে চেয়েছিল। পরিবারের ভাষায়, সেই স্মৃতিই এখন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় ধন।





