মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে ক্যাটাগরি-২ হারিকেন ট্রুডি, গুয়ামের দিকে ক্যাটাগরি-৪ টাইফুন চ্যাম্পি
মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে হারিকেন ট্রুডি শনিবার শক্তি বাড়িয়ে ক্যাটাগরি-২ হারিকেনে পরিণত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে। একই প্রশান্ত মহাসাগরে আরেকটি শক্তিশালী ঝড়, টাইফুন চ্যাম্পি, ক্যাটাগরি-৪ মাত্রায় শক্তিশালী হয়ে গুয়ামের দিকে এগোচ্ছে।
কলিমা রাজ্যের মানজানিলো থেকে হালিস্কোর কাবো কোরিয়েন্তেস পর্যন্ত এলাকায় হারিকেন সতর্কতা জারি রয়েছে। হারিকেন সেন্টারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রুডির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ মাইল (১৫৫ কিলোমিটার)। ঝড়টি কাবো কোরিয়েন্তেস থেকে প্রায় ২০৫ মাইল (৩৩০ কিলোমিটার) দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্বে এবং মানজানিলো থেকে প্রায় ১১৫ মাইল (১৮০ কিলোমিটার) দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল এবং ঘণ্টায় ১০ মাইল (১৭ কিলোমিটার) গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছিল।
ট্রুডির কেন্দ্র শনিবার মেক্সিকান উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাবে এবং রোববার পর্যন্ত এর কাছ দিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সর্বশেষ সতর্কতার পর মেক্সিকো সরকার লাস ইসলাস মারিয়াসের জন্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে এবং লাজারো কার্দেনাসের দক্ষিণে উপকূলের জন্য একই ধরনের সতর্কতা প্রত্যাহার করেছে।
মেক্সিকোর নৌবাহিনী নাবিক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে — কারণ উঁচু ঢেউ, ভারী বৃষ্টি এবং নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
কলিমা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝুঁকি এখনো কম রয়েছে, তবে ভারী বৃষ্টিপাত ক্ষতি করতে পারে — কারণ প্রশান্ত উপকূলে পরপর ঝড়ের কারণে মাটি ইতিমধ্যে সম্পৃক্ত (স্যাচুরেটেড) হয়ে আছে। সপ্তাহান্তজুড়ে ট্রুডি ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি (১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) বৃষ্টি ঝরাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার বিচ্ছিন্ন সর্বোচ্চ পরিমাণ প্রায় ১৫ ইঞ্চি (৩৮ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত হতে পারে।
এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরেই চ্যাম্পি ঘণ্টায় ১৫ মাইল (২৪ কিলোমিটার) গতিতে পশ্চিমে গুয়ামের দিকে এগোতে এগোতে ক্যাটাগরি-৪ ঝড়ে শক্তিশালী হয়েছে।
শনিবার রাতের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, চ্যাম্পি গুয়াম থেকে প্রায় ২৫ মাইল (৪০ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল এবং এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪০ মাইল (২২৫ কিলোমিটার) বলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে।
ঝড়টি স্থানীয় সময় রোববার ভোরে গুয়ামের দক্ষিণ দিয়ে অতিক্রম করবে এবং দিনজুড়ে আরও শক্তিশালী হতে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গুয়াম ও রোটায় টাইফুন সতর্কতা বহাল রয়েছে, আর টিনিয়ান ও সাইপানে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের সতর্কতা ও টাইফুন পর্যবেক্ষণ জারি রয়েছে।
গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের গভর্নররা দুজনেই শুক্রবার জরুরি দুর্যোগ ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন পেলে জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ফেডারেল সহায়তা ও তহবিল অনুমোদিত হবে।
এলাকাগুলোর বিমানবন্দর, বন্দর এবং কিছু স্বাস্থ্য সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির (ফেমা) শনিবারের হালনাগাদ অনুযায়ী, দ্বীপগুলোতে সহায়তা-সম্পদ পৌঁছাতে তিন থেকে পাঁচ দিন লাগতে পারে। উল্লেখ্য, এলাকাগুলো এখনো যথাক্রমে এপ্রিল ও জুলাইয়ে আঘাত হানা সুপার টাইফুন সিনলাকু ও বাভির ক্ষতি থেকে সেরে উঠছে।
দুটি ঝড়ই এখনো বিকাশমান। মেক্সিকোর উপকূলে ট্রুডির বৃষ্টি ও ঢেউয়ের প্রভাব এবং গুয়াম অঞ্চলে চ্যাম্পির গতিপথের ওপরই এখন নজর রাখছেন আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন।
