মেক্সিকো উপকূলে নৌকাডুবি: নিখোঁজ ১১ জনের সন্ধানে তল্লাশি, জীবিতদের গায়ে হাঙরের কামড়
মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর এখনো নিখোঁজ ১১ জনের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। উদ্ধার পাওয়া কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হাঙরের কামড়ের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ড শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘উদ্ধার পাওয়া কয়েকজনের শরীরে হাঙরের কামড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গুরুতর আঘাত ছিল। স্যান ডিয়েগো যাওয়ার পথে কোস্ট গার্ড তাদের জীবন রক্ষাকারী প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে।’
শুক্রবার মেক্সিকোর ১৬ জন নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, নৌকাটিতে মোট ২৭ জন ছিলেন।
কোস্ট গার্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একাধিক বিমান ও নৌকা ব্যবহার করে এবং মেক্সিকোর নৌবাহিনীর সহায়তায় এলাকাটিতে বাকি যাত্রীদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, শনিবার পরে আরও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হবে।
কোস্ট গার্ডের লেফটেন্যান্ট সান্তিয়াগো তাম্বুরিনি জানান, শুক্রবার রাত প্রায় ১টার দিকে নৌকাটি থেকে কেউ একজন মে-ডে (বিপদ সংকেত) পাঠান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একজন উদ্ধারকারী সাঁতারুসহ ক্রুদের ১৬ জনকে পানি থেকে তুলতে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগে।
নৌকাটি ডুবে যায় মেক্সিকোর এনসেনাডা থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার (১৪০ মাইল) পশ্চিমে — এলাকাটি মাছ ধরা ও বিনোদনমূলক নৌকার জন্য জনপ্রিয়, তবে সেখানে চোরাচালানকারীদেরও আনাগোনা রয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের জলসীমায় না ঘটলেও কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা চার্লি ভ্যালর শনিবার বলেন, ‘আমরা সাহায্য করতে পেরেছি, আর সে জন্যই আমরা আমাদের সম্পদ পাঠিয়েছি।’
মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী ও অভিবাসী পরিবহনের প্রাণঘাতী চেষ্টার ঘটনা আগেও ঘটেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার উত্তরে একটি নৌকা উল্টে অন্তত তিনজন মারা যান। ২০২৩ সালে ঘন কুয়াশার মধ্যে স্যান ডিয়েগো সৈকতের কাছে দুটি নৌকার একটি ডুবে আটজন নিহত হন — যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে অন্যতম প্রাণঘাতী সামুদ্রিক চোরাচালান দুর্ঘটনা ছিল সেটি।

