৬০০ পিস ইয়াবাসহ আখাউড়ায় গ্রেপ্তার বিজিবি সদস্য, পোস্টিং ছিল রাঙামাটিতে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ৬০০ পিস ইয়াবাসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্যের কাছ থেকে এত বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে আখাউড়া পৌরসভার দেবগ্রাম নয়াবাজার এলাকার ‘মা জননী স্টোর’-এর সামনের সড়ক থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আখাউড়া থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল।
আটক বিজিবি সদস্যের নাম তামিম রানা (৩৫)। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার হরিরামপুর ইউনিয়নের নিকুরকান্দা গ্রামে। তিনি মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
জানা গেছে, তামিম রানা বর্তমানে ৪৫ ব্যাটালিয়ন বিজিবি হেডকোয়ার্টার্স, রাঙামাটির বরকল বিওপিতে সিপাহী হিসেবে কর্মরত। অর্থাৎ কর্মস্থল রাঙামাটিতে হলেও তাঁকে আটক করা হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে, ইয়াবার বড় একটি চালানসহ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আখাউড়া থানার এসআই সামছুল হক, এএসআই ওমর ফারুক ও এএসআই বিল্লাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আখাউড়া-মোগড়া বাজারগামী সড়কে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে দেবগ্রাম নয়াবাজার এলাকায় পৌঁছে পুলিশ তামিম রানাকে আটক করে। এরপর তাঁর দেহ তল্লাশি চালিয়ে ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
ইয়াবার পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে একটি বিজিবি আইডি কার্ড এবং একটি বাটন মোবাইল ফোনও উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার ঠেকানোই বিজিবির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই বাহিনীরই একজন সদস্য ইয়াবাসহ ধরা পড়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। আটক সদস্য একাই এই কাজে জড়িত ছিলেন, নাকি তাঁর পেছনে বড় কোনো চক্র রয়েছে—সেটি এখন তদন্তের বিষয়।
পুলিশ বলছে, মামলা দায়েরের পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হতে পারে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবার উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।




