মৌলভীবাজার শহরে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের অভিযান
মৌলভীবাজার শহরে ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। যানজট নিরসন এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং রোধ করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
রোববার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজা আহমেদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চলে পৌরসভা এলাকা থেকে চাঁদনীঘাটের মনু সেতু পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে।
অভিযান চলাকালে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত হলেও দখলের কারণে তা অনেক জায়গায় সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজা আহমেদ অভিযান শেষে বলেন, ব্যবসায়ীদের সড়কের জায়গা দখল না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তিনি জানান, শহরের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজট এবং যত্রতত্র পার্কিং দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের সড়কে নেমে হাঁটতে হয়, যা যান চলাচলকে আরও ধীর করে দেয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
জেলা প্রশাসনের এই অভিযানে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। পৌরসভা এলাকা থেকে মনু সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ এই অংশটিতে সন্ধ্যার অভিযানে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ে।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট করে জানানো হয়, সড়ক ও ফুটপাতের জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা রাখা যাবে না। সতর্কবার্তা অমান্য করলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয় পথচারী ও যানচালকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ফুটপাত দখলমুক্ত করে যানজট কমানো। প্রশাসনের এই অভিযান সেই দাবিরই ধারাবাহিক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে উচ্ছেদের পর ফুটপাত আবার দখল হয়ে যায় কি না, তা নজরদারির ওপর নির্ভর করবে বলে স্থানীয়দের মত। নিয়মিত তদারকি না হলে অবৈধ স্থাপনা ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যায়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানজট নিরসন ও অবৈধ পার্কিং রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সড়কের জায়গা দখল না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি দেওয়া সতর্কবার্তাই এখন পরবর্তী পদক্ষেপের ভিত্তি হবে।








