ফুলবাড়িয়ায় ৬ লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার চারজন দুই দিনের রিমান্ডে
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার চারজনকে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রোববার ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার তমা এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার আ. রশিদ ফকিরের ছেলে মোস্তফা ফকির (৪৮), ইসমাইল বিশ্বাস (৪৯), ফুলবাড়িয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে গোলাম মোস্তফা (২৮) এবং একই উপজেলার আইয়ুব আলীর ছেলে আবু সাঈদ (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকালে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পরদিন শুক্রবার আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রোববার রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ফুলবাড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান চার আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জাল নোটের কারবার সাধারণত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—কোথাও নোট ছাপা হয়, তারপর বিভিন্ন হাত ঘুরে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে এই জাল নোটের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেসব তথ্য বের করে আনাই তদন্তের মূল লক্ষ্য থাকবে।
ঈদ-পূজাসহ বড় উৎসবের মৌসুমে এবং হাটবাজারের ভিড়ে জাল নোট ছড়ানোর প্রবণতা বাড়ে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক করে থাকে। সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিটা সরাসরি—অজান্তে জাল নোট পেলে তার পুরো মূল্যই হারাতে হয়, কারণ ব্যাংক বা পুলিশের কাছে ধরা পড়লে সেই নোট বাজেয়াপ্ত হয়।
নোট নেওয়ার সময় জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, অস্পষ্ট ছাপা ও কাগজের মান যাচাই করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্টরা। সন্দেহজনক নোট পেলে নিকটস্থ থানায় জানানোই নিরাপদ পথ।
এ ঘটনায় তদন্ত এখন রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদের পর্যায়ে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজন হলে চক্রের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হতে পারে।
আসামিদের রিমান্ড শেষে আবার আদালতে হাজির করা হবে। তখন তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনে আরও রিমান্ড চাইতে পারে, কিংবা তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানাতে পারে।






