গাজীপুরে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার মামলায় চারজন গ্রেপ্তার
গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে ইয়াবাসহ দুজনকে আটকের পর তাঁদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে এসআরবি-১, গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপারেশনস ও মিডিয়া অফিসার) শাহ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আকাশ হোসেন (২৩), মো. রাজিব (২৩), মো. নাজমুল হোসেন নাদিম ও শিউলি আক্তার সুমি (৩৫)। রোববার গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন পূর্ব চান্দনা এলাকার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কবরস্থানের পাশের সড়ক থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে ইয়াবাসহ আনিছ (১৯) ও শিমলা আক্তার ওরফে বৃষ্টি (২২) নামের দুজনকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ।
তাঁদের ছিনিয়ে নিতে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা পুলিশ ফাঁড়িতে অতর্কিত হামলা চালান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আটক দুজনকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ১৬ অক্টোবর এটিএসআই মো. নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু হয়।
মামলার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি-১। এসআরবির সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সহযোগিতায় এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আকাশ হোসেন ও মো. রাজিব মামলার এজাহারনামীয় আসামি। অন্য দুজন নাজমুল হোসেন নাদিম ও শিউলি আক্তার সুমিকে তদন্তে পাওয়া সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
অর্থাৎ গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুজন সরাসরি এজাহারে নাম থাকা আসামি, আর বাকি দুজন তদন্তের ধারাবাহিকতায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হয়েছেন। এই পার্থক্যটি বিজ্ঞপ্তিতে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার চারজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর আদালত ও পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
ঘটনাটি রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় মাদক আটককে কেন্দ্র করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর হামলার অভিযোগ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার মতো ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকবে কি না, তা পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।
আপাতত গ্রেপ্তার চারজনকে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে মামলার প্রথম ধাপের অভিযান শেষ হয়েছে। আটক আনিছ ও শিমলার বিরুদ্ধে ইয়াবা আটকের ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে নতুন তথ্য দেওয়া হয়নি।




