আগামী বছর বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না, বেতাগীতে বললেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি
আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বরগুনার বেতাগী উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বক্তব্যে চিফ হুইপ আগের সরকারের বিদ্যুৎ পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, হাসিনার বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট আছে, কিন্তু ভেতরে মেশিন নেই। তিনি অভিযোগ করেন, টাকা খাওয়ার জন্যই এসব বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করা হয়েছিল।
এই অবস্থার কারণে বিদ্যুতের বিল কমানোর কোনো রাস্তা বর্তমান সরকারের কাছে নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের কাঠামোগত সমস্যার কারণেই বিল নিয়ে সরকারের হাতে বিকল্প সীমিত—এমনটাই তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গও তোলেন নুরুল ইসলাম মণি। তিনি দাবি করেন, দেশে গত দুই বছরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই এ দেশের নাগরিক এবং সবার অধিকার সমান। নাগরিক হিসেবে সমান অধিকারের এই অবস্থান তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
সভা শেষে চিফ হুইপ বেতাগী উপজেলার অসহায় ও দুস্থ ৩৭টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন। প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার সব পূজামণ্ডপে নগদ অর্থ ও জিআর চাল বিতরণ করেন তিনি। উৎসবের সময়ে মণ্ডপগুলোর জন্য এই সহায়তা দেওয়া হয়।
বেতাগীর এই সভাটি ছিল উপজেলার উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি বিদ্যুৎ, সম্প্রীতি ও স্থানীয় সহায়তা—তিনটি বিষয়েই বক্তব্য রাখেন।
বিদ্যুৎ নিয়ে তার ‘রাখার জায়গা থাকবে না’ মন্তব্যটি বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ। আগামী বছরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে বিল কমানো নিয়ে সরকারের কাছে রাস্তা নেই—এমন বক্তব্যের পর বিদ্যুৎ খাতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। বেতাগীর সভা থেকে ওঠা এই প্রশ্নের উত্তর আগামী দিনের নীতিগত সিদ্ধান্তেই মিলবে।




