রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
সর্বশেষ হালনাগাদ: সকাল ১০:৪০
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
রাজনীতি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাসে জাতি বিরক্ত, আলোচনা সভায় সরকারের কড়া সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ • দুপুর ২:৪৭ • পড়ার সময়: ৫ মিনিট

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের আশ্বাসের এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। রাজধানীতে এক মুক্ত আলোচনায় তারা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকর না হলে জনগণের আস্থা আরও ক্ষয় হবে।

রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আমার বাংলাদেশ পার্টি, সংক্ষেপে এবি পার্টি, সভাটির আয়োজন করে। সভার শিরোনাম ছিল জুলাই সনদের এক বছর উপলক্ষে প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মজলুম ছিল, কিন্তু এরপর তারা দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। তার অভিযোগ, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিএনপি বদলে গেলেও তারা বদলাবেন না এবং জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়বেন। তিনি ঘোষণা দেন, এখন থেকে বিরোধী দল সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে, কারণ তার মতে এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাওয়ার যোগ্য নয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তার সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া। মঞ্জু বলেন, সরকারের মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত হয়ে গেছে এবং সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, তা তারা কল্পনাও করেননি।

মঞ্জু আরও স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি নিজেরাই দাবি করেছে জুলাইয়ে তাদের ৮৪৮ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। সেই শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারের উচিত সনদটি বাস্তবায়ন করা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি ভোগ করেছেন, বিএনপির সেই ভুল করা উচিত হবে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার রয়েছে, যার অনেক কিছুই বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথচ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি এমন আচরণ করছে, যেন সনদটি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তোলেন তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, সরকারকে বুঝতে হবে জনগণ কী চায়। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা না থাকার কথা বলেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক সনদটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল ও রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সনদ ও গণভোটের রায়ের ক্ষেত্রে দ্বৈত অবস্থান নিয়েছে—সরকার গঠনের ফলাফল মেনে নিলেও গণভোটের রায় উপেক্ষা করছে। সনদ কার্যকর না হলে সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে। তার মতে, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারের ধারাবাহিকতা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। তিনি সনদ ছাড়া চলাকে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠার সঙ্গে তুলনা করেন এবং অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের বদলে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ, যার মৌলিক উদ্দেশ্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন প্রধান দায়িত্ব তা বাস্তবায়ন করা এবং বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই সংবিধানের দোহাই দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য অপরাধ। তার ভাষায়, এই আন্দোলন শুধু ১১ দলের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।

আলোচনা সভায় এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমানসহ আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে একই দাবি—সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিলম্ব নয়, এখন প্রয়োজন স্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ। সরকার সেই পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃষ্টি।

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

রাজনীতিসকাল ১০:৩৭ • ১ মিনিটে পড়ুন

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর ভাষায়, তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য…

রাজনীতিসকাল ১০:৩২ • ১ মিনিটে পড়ুন

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।…

রাজনীতিসকাল ৯:৫৮ • ১ মিনিটে পড়ুন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ৬৮ নারী

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে সরব হয়ে উঠেছেন দলটির নারী নেত্রীরা। মনোনয়ন দৌড়ে আছেন ৬৮ জন নারী।…