মিসৌরিতে মহাসড়কে গুলিতে কিশোরী নিহত: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গুলির ঘটনায়ও অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ওভারল্যান্ডে ইন্টারস্টেট ১৭০ মহাসড়ক ধরে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় গুলিতে নিহত হয়েছে ১৭ বছর বয়সী অ্যালিসা উইলসন। গত ১৪ অক্টোবরের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখন দ্বিতীয় আরেকটি গুলির ঘটনায়ও অভিযোগ আনা হয়েছে—দুটি ঘটনাতেই মহাসড়কে চলন্ত গাড়িতে গুলি চালানো হয়েছে।
অ্যালিসা সেদিন সেন্ট লুইস চিড়িয়াখানার ‘বু অ্যাট দ্য জু’ নামের হ্যালোইন অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল। একজন সন্দেহভাজন তার বুইক এনকোর গাড়ির পেছনে একটি গুলি ছোড়ে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।
গুলি অ্যালিসার পিঠে লাগে, সে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং গাড়িটি মহাসড়কের কংক্রিটের মাঝখানের দেয়ালে ধাক্কা খায়। বার্নস-জুইশ হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সন্দেহভাজন বন্দুকধারী টেক্সাসের উইলি জেমস হার্নডন, বয়স ৪৩। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীটির সঙ্গে তার কোনো পরিচিত সম্পর্ক ছিল না।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ঘোষণার সময় অ্যালিসার বাবা রবার্ট হিকম্যান বলেন, ‘অ্যালিসার বয়স ছিল ১৭, সে নিজের জীবন নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল, ভবিষ্যৎ নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল। ওর ১৮ বছর পূর্ণ হতে আর ৬০ দিন বাকি ছিল। আমরা প্রথমবারের মতো পুরো পরিবার মিলে ডিজনিতে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম—ওর সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র প্রিন্সেস টিয়ানাকে দেখাতে। দুর্ভাগ্যবশত সেটা আর হবে না। এটি ছিল একটি অর্থহীন ঘটনা।’
ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, হার্নডনের বিরুদ্ধে এর কয়েক দিন আগের দ্বিতীয় একটি গুলির ঘটনায়ও অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর সেন্ট লুইস মেট্রোপলিটন পুলিশ খবর পায়, মিসৌরিতে ইন্টারস্টেট ৫৫ থেকে বের হওয়ার ঠিক পর একটি গাড়িতে গুলি চালানো হয়েছে। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে একটি সাদা এসইউভি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়—গাড়িটির চেহারা হার্নডনের বুইক এনক্লেভের সঙ্গে মিলে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যালিসাকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র থেকেই ওই গুলি ছোড়া হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণে ব্যালিস্টিক পরীক্ষা চলছে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।
ফেডারেল ফৌজদারি অভিযোগে প্রসিকিউটররা বলেছেন, তারা হার্নডনের বলে মনে করা বুইক এনক্লেভটিকে অনুসরণ করেছেন—১১ অক্টোবরের প্রথম গুলির স্থান থেকে, ১৪ অক্টোবর অ্যালিসার মৃত্যুর স্থান হয়ে, ১৬ অক্টোবর ইলিনয়ের ক্যাসিভিলের একটি ডেজ ইন হোটেল পর্যন্ত।
সেখানে প্রসিকিউটররা হার্নডনের স্ত্রী তাইয়া হার্নডনের (৪৫) সঙ্গে কথা বলার সময় হার্নডন হোটেলের কক্ষ থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। গ্রেপ্তারের সময় সে গুলি চালানো প্রসঙ্গে চিৎকার করে কথা বলছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
হোটেলের কক্ষে খোলা জায়গায় একটি এবিসি-১৫ রাইফেল পাওয়া যায় বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। এ ছাড়া পাওয়া গেছে অ্যালিসার গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত ধরনের গোলাবারুদ, ইন্টারস্টেট ১৭০-তে মৃত্যুর স্থানের কাছের একটি গ্যাস স্টেশনের রসিদ, দুটি লাইসেন্স প্লেট এবং হাতে লেখা নোট—যাতে তাকে অনুসরণ করছে বলে তার ধারণা করা পুলিশের গাড়িগুলোর বর্ণনা ছিল।
ইলিনয়ের ফেডারেল প্রসিকিউটররা হার্নডনের বিরুদ্ধে দণ্ডিত অপরাধী হয়েও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ এনেছেন। পৃথকভাবে মিসৌরির সেন্ট লুইস কাউন্টিতে তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা ও সশস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার ফেডারেল পাবলিক ডিফেন্ডার এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি।




