‘এক ঘণ্টারও কম সময়ে ইসরায়েল বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে’: নেতানিয়াহুর শাসন পতনের ডাকের জবাবে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপের জবাবে মাত্র এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গোটা ইসরায়েলকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় হিব্রু, ইংরেজি ও ফারসি—এই তিন ভাষায় কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন আজিজি। তিনি লেখেন, ‘একটি ভুল হিসাবই যথেষ্ট—এক ঘণ্টারও কম সময়ে অধিকৃত ভূখণ্ড বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।’
তিন ভাষায় বার্তা দেওয়ার বিষয়টি লক্ষণীয়। হিব্রু ভাষায় সরাসরি ইসরায়েলি জনগণের উদ্দেশে, ইংরেজিতে আন্তর্জাতিক দর্শকের উদ্দেশে এবং ফারসিতে নিজ দেশের মানুষের উদ্দেশে এই হুঁশিয়ারি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ইরানি এই আইনপ্রণেতা।
নিজের হিব্রু ভাষার পোস্টটিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি বক্তব্যের ভিডিও সংযুক্ত করেন আজিজি। সেই ভিডিওই এই পাল্টা হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি সমাপনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘এই হুমকি চিরতরে দূর করার একটিই পথ—ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। সেনাবাহিনী, মোসাদ ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর প্রতি এটাই আমার নির্দেশ।’
তেহরানের বর্তমান শাসনকাঠামো ধ্বংসের ডাক দিয়ে নেতানিয়াহুর করা সেই মন্তব্যের জের ধরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান আজিজি। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পতনের ডাককে তেহরান সরাসরি অস্তিত্বের হুমকি হিসেবেই দেখছে, আজিজির বার্তায় তা স্পষ্ট।
তবে এক ঘণ্টার মধ্যে এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর দাবির সপক্ষে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সমরাস্ত্র বা সামরিক পরিকল্পনার বিবরণ প্রকাশ করেননি। ফলে এই হুঁশিয়ারি বাস্তব সামরিক ঘোষণা, নাকি প্রতিরোধের বার্তা হিসেবে কূটনৈতিক চাপ—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
দুই দেশের মধ্যে চলমান চরম বৈরী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বক্তব্যকে তেহরানের আগ্রাসী পাল্টা কৌশলের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধানের মুখ থেকে এমন ভাষা আসা ইঙ্গিত দেয়, তেহরান পাল্টা জবাবের হুমকিকে আনুষ্ঠানিক নীতির অংশ হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে।
উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এমন প্রকাশ্য বাগ্যুদ্ধ ও সামরিক আগ্রাসনের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
বিশেষ করে সরাসরি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইসরায়েলি হুমকি এবং এর বিপরীতে ইরানের ধ্বংসাত্মক পাল্টা সতর্কবার্তা আঞ্চলিক সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। কথার লড়াই যত প্রকাশ্য ও চরম হচ্ছে, ভুল হিসাবের ঝুঁকিও তত বাড়ছে—আজিজির নিজের ভাষাতেই সেই ‘ভুল হিসাব’-এর কথাই উঠে এসেছে।
এই বাগ্যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। আপাতত তেহরান ও তেল আবিব—দুই রাজধানী থেকেই আসছে হুমকির ভাষা, আর পুরো অঞ্চল তাকিয়ে আছে সেই ভাষা মাঠের সংঘাতে রূপ নেয় কি না, সেদিকে।




