উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হত্যার পর জানাজা শেষে আসামিদের দুই বাড়িতে আগুন, নয়জন গ্রেপ্তার, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি
বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে (৩৭) কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর দুই আসামির বাড়িতে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। আগুনে দুটি টিনের ঘর পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে উজিরপুর থানার ওসিসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে অগ্নিসংযোগের এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার প্রত্যন্ত সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওসার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একটি মাইক্রোবাসে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত এই হামলা চালায়।
নিহত কাওসারের জানাজা শনিবার এশার নামাজের পর সম্পন্ন হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের ফেরার পথেই আসামিদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
সাতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কাইয়ুম ভাট্টি বলেন, কাওসারের জানাজা শেষে ফেরার পথে তিনি জানতে পারেন, হত্যা মামলার দুই আসামির বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় সেতুসংলগ্ন এলাকায় মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়ি রয়েছে। অন্য বাড়িটি তাঁর বড় ভাই নান্না মোল্লার। সন্ধ্যার পর কোনো এক সময় আগুন দেওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম আগুন দেওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
ওসি জানান, দুটি টিনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ নেই। ঘর দুটি পুড়ে যাওয়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কারা আগুন দিয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই মোস্তফা বাদী হয়ে সজল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। হামলায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একদিকে হত্যাকাণ্ড, অন্যদিকে আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ—পরপর দুই দিনের ঘটনায় সাতলা ইউনিয়নজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও কাজ করছে।
পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অগ্নিসংযোগে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং হত্যা মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের কাজ চলছে।
এখন এলাকার সবার নজর তদন্তের দিকে। হত্যার মোটিভ ও হামলাকারীদের পুরো চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়া কঠিন হবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।





