আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো চাঁদপুরের তিন দিনের জেলা ইজতেমা, মেঘনাপাড়ে হাজারো মুসল্লি
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী চাঁদপুর জেলা ইজতেমা। শনিবার দুপুর ১২টায় হেদায়েতি বয়ান শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের আমীর মাওলানা শামসুদ্দিন। সমাপনী এই মোনাজাতের মধ্য দিয়েই ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতার ইতি ঘটে।
মোনাজাতের সময় হাজারো মুসল্লির ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মেঘনাপাড়ের ইজতেমা ময়দান। দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা সমাপনী মুহূর্তে একসঙ্গে মোনাজাতে শরিক হন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর বাদ ফজর আম বয়ানের মাধ্যমে এই ইজতেমা শুরু হয়েছিল। চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার দোকানঘর এলাকায় মেঘনাপাড়েই ছিল ইজতেমার ময়দান।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে চাঁদপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। জেলার বাইরে থেকেও অনেকে এসে ইজতেমায় যোগ দিয়েছিলেন।
ইজতেমায় কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রবীণ আলেমদের বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এসব বয়ান চলে।
বয়ানের পাশাপাশি ছিল জিকির-আজকার এবং বিশেষ তালিমের আয়োজন। ইজতেমার কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। সমাপনী দোয়ায় সেই প্রার্থনাই ছিল কেন্দ্রে।
শনিবার দুপুরের কর্মসূচিতে প্রথমে হেদায়েতি বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। সেই বয়ান শেষ হওয়ার পরই আখেরি মোনাজাত পরিচালিত হয়, যা দিয়ে তিন দিনের আয়োজন শেষ হয়।
ইজতেমা ব্যবস্থাপনার সার্বিক বিষয়ে তাবলিগ জামাত চাঁদপুর জেলার জিম্মাদার মো. আরিফ উল্লাহ বলেন, ‘নিজামুদ্দিনের মূল ধারার তত্ত্বাবধানে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।’ তার ভাষ্যে আয়োজনের তত্ত্বাবধানের দিকটি স্পষ্ট করা হয়েছে।
আরিফ উল্লাহ আরও বলেন, ধর্মপ্রাণ মানুষের বিপুল উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমার সফল সমাপ্তি ঘটে। শান্তিপূর্ণ সমাপ্তির বিষয়টিই তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
তিন দিন ধরে মেঘনাপাড়ের ময়দানে চলা এই আয়োজনে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বয়ান, তালিম আর জিকির-আজকারে মুখর ছিল ময়দান।
আখেরি মোনাজাতের পর মুসল্লিরা ময়দান ছাড়তে শুরু করেন। তিন দিনের জেলা ইজতেমা শেষ হলো—পরের আয়োজন নিয়ে সিদ্ধান্ত হলে তা আয়োজকদের পক্ষ থেকেই জানানো হবে।



