সৌদি আরব ও এডেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মক্কা-মদিনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের আসন এডেনে একের পর এক হামলা চালিয়েছে হুথি যোদ্ধারা। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি কোস্টগার্ড ঘাঁটিসহ একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইয়েমেন সরকারের পরিবহন মন্ত্রণালয় শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে হুথিদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় এটিকে ‘এই মাসে চতুর্থ এমন হামলা’ বলে বর্ণনা করেছে।
বিমানবন্দরে হামলা ‘বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ এবং এর ওপর নির্ভরশীল নাগরিকদের জন্য এর ‘মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব’ রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে।
ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোস্টগার্ড সদর দপ্তর এবং আরও একটি ভবনেও আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। অন্যদিকে হুথিরা আল-নাসর ক্যাম্প এবং এডেনের নৌ সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী বলেছে, শুক্রবার হুথিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ত্রুটির কারণে হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানায় একটি পারিবারিক বাড়ির ওপর পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্রে এমন একাধিক ত্রুটি দেখা গেছে বলেও সেনাবাহিনীর দাবি।
হুথি-পরিচালিত আল-মাসিরা টিভি শনিবার দাবি করেছে, সৌদি জোটের বিমান হামলায় সানা এবং বন্দরনগরী হোদেইদায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি, আর কথিত হামলা নিয়ে রিয়াদ কোনো মন্তব্য করেনি।
শনিবারই সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এক্স-এ জানিয়েছে, হুথিরা মক্কা ও মদিনার দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সেগুলো প্রতিহত করার পর ‘ধ্বংসাবশেষ পড়ার’ সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কায় হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবরও এসেছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি এক্স-এ যেসব ছবি শেয়ার করেছে, তাতে সৌদি আরবের কোথাও পড়ে থাকা বড়, পোড়া ক্ষেপণাস্ত্র-আকৃতির একটি বস্তু দেখা গেছে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইভি হুথি হামলাগুলোকে ‘জঘন্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, এসব হামলা বেসামরিক মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রতি ‘চরম অবজ্ঞার’ প্রকাশ।
তবে হুথিরা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র দুটি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবিকে ‘বিরাট মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের তিনটি বিমানবন্দর, তেল অবকাঠামো এবং একটি বিমানঘাঁটি।
২০২২ সালে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ার পর থেকে হুথিরা সৌদি জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দরগুলোতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে আসছে। ইয়েমেনের ভেতরেও ফ্রন্টলাইনে তীব্র লড়াই চলছে — গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুথিদের সঙ্গে লড়ছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী।
শনিবার ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি বলেছেন, সরকারি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনজুড়ে ৭০০-র বেশি ‘টার্গেটিং অপারেশন’ চালিয়েছে, ৩০০ হুথি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করেছে এবং সামরিক যান অকেজো করেছে। তাইজে ফিল্ড কমান্ড সেন্টার, হুথিদের জমায়েত, অস্ত্রের গুদাম ও সরবরাহ লাইন লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে কয়েকদিন ধরে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।




