বিশ্ব পোলিও দিবসে হাতিরঝিলে রোটারির বর্ণাঢ্য র্যালি, শিশুদের টিকাদানে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে রাজধানীর হাতিরঝিল লেক রোডে বর্ণাঢ্য র্যালি করেছে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল। পোলিও নির্মূলের গুরুত্ব সবার কাছে পৌঁছে দিতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
র্যালিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়। এসব বার্তার মধ্য দিয়ে শিশুদের পোলিও থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও সামনে আনা হয়।
রোটারিয়ানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা র্যালিতে অংশ নেন। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের এই অংশগ্রহণ কর্মসূচিটিকে শুধু একটি সংগঠনের আয়োজনে সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং একটি সামাজিক সচেতনতার কর্মসূচিতে রূপ দিয়েছে।
অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূলে চলমান কার্যক্রমের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন বলে সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে চলা নির্মূল অভিযানের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের এই সংহতিই ছিল র্যালির অন্যতম বার্তা।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন রোটারি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ও সাবেক রোটারি গভর্নর ইশতিয়াক জামান এবং ডেপুটি কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ও সাবেক রোটারি গভর্নর এ কে এম শামসুল হুদা।
কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় পোলিও নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর। কারণ, টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই রোগ ও তার প্রতিরোধ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
শিশুদের টিকাদানে অভিভাবকদের উৎসাহিত করার কথাও কর্মসূচিতে বিশেষভাবে উঠে আসে। প্রতিটি শিশু যেন সময়মতো টিকা পায়, সেই লক্ষ্যেই পরিবারগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ চাওয়া হয়।
পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার উদ্যোগে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয় র্যালিতে। সংগঠকদের বার্তা ছিল, শুধু স্বাস্থ্যকর্মীদের চেষ্টায় নয়, পুরো সমাজের সম্পৃক্ততাতেই নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
রোটারি ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল কার্যক্রমে কাজ করছে। বহু বছর ধরে চলা এই কাজের অভিজ্ঞতাই সংস্থাটিকে এই ক্ষেত্রে অন্যতম পরিচিত নাম করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিশুদের পোলিও থেকে সুরক্ষিত রাখতে সংস্থাটি বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করার এই পদ্ধতিকেই তারা কার্যকর বলে মনে করে।
হাতিরঝিলের এই র্যালি সেই দীর্ঘদিনের কার্যক্রমেরই একটি ধারাবাহিক আয়োজন। সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটি শেষ হলেও, পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার আহ্বানটিই ছিল এর মূল সুর।





