ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজ নিয়ে সমালোচকদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ স্টিফেন স্মিথের: ‘তোমরা কী করছ?’
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ক্রীড়া ভাষ্যকার ও উপস্থাপক স্টিফেন এ. স্মিথ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর হোয়াইট হাউসের বৈঠক নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নিজের অনুষ্ঠান ‘স্ট্রেইট শুটার’-এ তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘তোমরা আসলে কী করছ?’
স্মিথ জানান, তিনি বেশ কয়েকটি বিষয় প্রেসিডেন্টের নজরে আনতে চেয়েছিলেন। তবে তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল একটি বিষয়: ডিইআই (বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি) উদ্যোগগুলো বাতিল করার প্রভাব বেসরকারি খাতে কীভাবে পড়ছে।
তাঁর ভাষায়, ডিইআই উদ্যোগ চাপা পড়ায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীরা ভয় পাচ্ছেন—তাঁরা ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (এইচবিসিইউ) দান-অনুদান দিলে তা ডিইআই উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো জনহিতকর ও দাতব্য কাজে পিছিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি প্রেসিডেন্টকে জানান।
স্মিথ বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনুরোধ করেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প বলেন যে তিনি আগে এ দিকটি ভেবে দেখেননি এবং বিষয়টি তিনি সামলাবেন। শুধু তাই নয়, পরে ফোন করে ট্রাম্প তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে এইচবিসিইউ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি বিষয়টি তুলবেন।
‘আমি জানি না শেষ পর্যন্ত কী হবে, কিন্তু আমি চেষ্টা করেছি—যেমনটা আমি সব সময় করেছি এবং করব,’ বলেন স্মিথ। তাঁর যুক্তি, সমালোচনার বদলে সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টি তোলাই ছিল দায়িত্বশীল পথ।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্মিথ। সেই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কৌতুকশিল্পী ও উপস্থাপক বিল মাহের এবং সংগীতশিল্পী কিড রক। বৈঠকটির পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে স্মিথ বলেন, ‘বিল মাহেরের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে যাওয়া নিয়ে যারা অভিযোগ করছেন, তাঁরা নিজেরা কী করছেন? আপনারা কি কিছু করেছেন? কিছু করছেন?’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সিরিয়াসএক্সএমের নির্বাহীদের কাছে ভাষার জন্য ক্ষমাও চান, তবে নিজের অবস্থান থেকে সরেননি।
‘এটা কখনোই যথেষ্ট নয়,’ বলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রদায়ের জন্য কিছু করতে গেলেই ‘বিকিয়ে যাওয়া’র তকমা দেওয়া হয়, অথচ সমালোচকরা নিজেরা কার্যত কিছুই করেন না।
অনুষ্ঠানজুড়ে বারবার কৌতুকশিল্পী ডি. এল. হিউলির সমালোচনা করেন স্মিথ। ‘আনসার্টেইন’ পডকাস্টে হিউলি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ট্রাম্প কেন স্মিথের সঙ্গে এত স্বচ্ছন্দে কথা বলেন, অথচ যারা তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেন তাঁদের এড়িয়ে চলেন।
হিউলি বলেছিলেন, ‘আমাদের যারা ঘৃণা করে, তারা আপনাকে পছন্দ করে—এটা আপনার সম্পর্কে কিছু বলে দেয়।’ তিনি আরও প্রশ্ন করেন, ‘আমার নায়কদের যারা ঘৃণা করে, তারা আপনাকে কেন ভালোবাসে?’
জবাবে স্মিথ বলেন, তিনি এসব অভিযোগে ক্লান্ত। ‘কী করা দরকার তা নিয়ে অভিযোগ করতেই সবাই ব্যস্ত, কিন্তু কেউ নিজের ছোট পরিসরে কিছু করার চেষ্টা করলে তাকে বিকিয়ে যাওয়া বলা হয়,’ বলেন তিনি।
বুধবার ‘দ্য ভিউ’ অনুষ্ঠানেও স্মিথ এই বৈঠকের পক্ষে সাফাই দেন এবং বলেন, তিনি এর জন্য ক্ষমা চাইবেন না। সহ-উপস্থাপক সানি হোস্টিন ট্রাম্পের বর্ণবৈষম্যের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে জানতে চান, বৈঠকে তিনি আদৌ কিছু অর্জন করতে পেরেছেন কি না।
জবাবে স্মিথ বলেন, ‘আমি জানি না। সময়ই বলবে। কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আর আমি চেষ্টা না করে থাকতে পারি না।’ তিনি বারবার যুক্তি দেন, ট্রাম্প ২০২৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন এবং সবাইকে সেই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। ‘সম্প্রদায়ের স্বার্থে সব উপায় চেষ্টা করাই আমার কাজ—এর জন্য কারও কাছে ক্ষমা চাইব না,’ বলেন তিনি।






