তিন দফা দাবিতে সাজেকে তৃতীয় দিনের সড়ক অবরোধ, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ পর্যটনকেন্দ্র
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে তিন দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো শনিবার (২৪ অক্টোবর) সড়ক অবরোধ চলছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, আর অবরোধের কারণে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটন গন্তব্য কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কারণে সাজেক যাওয়ার সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকরা সাজেকে পৌঁছাতে পারছেন না, আবার সেখানে থাকা কারও ফেরার পথও বন্ধ।
পরিস্থিতির কারণে জেলা প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ অবরোধ প্রত্যাহার বা দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সময়সীমা এখন নেই।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির প্রথমটি হলো, সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয় দাবি, বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয় দাবিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ ও নিরীহ মানুষের ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালাতে পারবে না এবং তাঁদের হয়রানি করা যাবে না। তিনটি দাবির কেন্দ্রেই রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রশ্ন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়ভীতির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি এই জনপদে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন।
সংগঠন দুটির নেতারা জানিয়েছেন, এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁরা পুনরায় অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন — অর্থাৎ এই অবরোধ একটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ থেকে পুনরায় জ্বলে ওঠা আন্দোলন।
সাজেক গণঅধিকার আন্দোলনের সভাপতি বাবুধন চাকমা বলেন, তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে। তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্দোলনকারীরা আপসের বদলে দাবি আদায়কেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখছেন।
সাজেক বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র, যেখানে সারা বছরই দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটক যান। পর্যটনকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় স্থানীয় রিসোর্ট, পরিবহন ও পর্যটননির্ভর ব্যবসার ওপর সরাসরি আঘাত আসছে, পাশাপাশি আটকে পড়া বা ভ্রমণ বাতিল করা পর্যটকদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য হলো, পর্যটনের ক্ষতির চেয়ে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন বড়। সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব নয় বলেই তাঁরা অবরোধে অনড় রয়েছেন।
এখন প্রশাসনের সামনে চ্যালেঞ্জ দ্বিমুখী — একদিকে আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া, অন্যদিকে পর্যটনকেন্দ্র ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা। আগের ৪৮ ঘণ্টার আশ্বাস কার্যকর না হওয়ায় এবার যেকোনো নতুন আশ্বাসকে আন্দোলনকারীরা কতটা গ্রহণ করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তৃতীয় দিনের অবরোধ শেষে সবার নজর এখন জেলা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আলোচনার টেবিলে সমাধান আসে, নাকি অবরোধ আরও দীর্ঘায়িত হয়ে সাজেকের পর্যটন মৌসুমের ক্ষতি বাড়তে থাকে — আগামী দিনগুলোতেই তা স্পষ্ট হবে।





