হেবরনে দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ঘরছাড়া, পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি অভিযানে গ্রেপ্তার অন্তত ৭০
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। শহরটি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং বাসিন্দারা ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
দুই ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হওয়ার ঘটনার পর পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ শনিবার হেবরনের বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
হেবরনের মেয়র ইউসেফ আল-জা’বারি আল জাজিরাকে বলেন, ২ হাজার ২০০ মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি রিজার্ভ ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর থেকে শত শত ইসরায়েলি অভিযান হয়েছে। ওই হামলায় দুই ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হন।
হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুরো পশ্চিম তীরে ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ আরোপের নির্দেশ দেন। মেয়র আল-জা’বারি শনিবার বলেন, হেবরনের বাসিন্দারা এখন শহরে ঢুকতেও পারছেন না, বেরোতেও পারছেন না।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সৈন্যরা গভীর রাতে লাউডস্পিকারে সরে যাওয়ার নির্দেশ ঘোষণা করেছে, ফলে প্রস্তুতির সময় মেলেনি এবং যাওয়ার জায়গাও প্রায় নেই। হঠাৎ এই উচ্ছেদে পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
এদিকে হেবরনের ফার্শ আল-হাওয়া তল্লাশিচৌকির কাছে ইসরায়েলি সৈন্যরা আল জাজিরার সাংবাদিকদের দিকে স্টান গ্রেনেড ছুড়েছে। সাংবাদিকরা ওই এলাকায় বাড়িঘর ও যানবাহন গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান ধারণ করছিলেন।
আল জাজিরার মাঠপর্যায়ের সংবাদদাতাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্তত ১৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। উত্তরের জেনিন ও নাবলুস, মধ্যাঞ্চলের রামাল্লাহ, আল-বিরেহ, বিরজেইত ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং দক্ষিণের বেথলেহেম এসব এলাকার অন্তর্ভুক্ত।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি জানিয়েছে, পশ্চিম তীরজুড়ে অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ৭০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। এক দিনে এতগুলো এলাকায় একযোগে অভিযান ও গ্রেপ্তার পরিস্থিতির ব্যাপকতা তুলে ধরছে।
পশ্চিম তীর শাসনকারী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘সম্মিলিত শাস্তি’ বলে অভিহিত করেছে। বাড়িঘর ধ্বংস, পুরো মহল্লা জোর করে খালি করা এবং ফিলিস্তিনি শহরগুলো অবরোধ ও ঘেরাওয়ের কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে বলে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে।
অন্যদিকে হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, দখলদার বাহিনী ও তাদের অপরাধী বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যে অভিযান ও উত্তেজনা চালাচ্ছে, তা আরও ক্ষোভই উসকে দেবে।
হেবরন শহরে প্রায় ২ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন, আর পুরো হেবরন গভর্নরেটে আরও প্রায় ৬ লাখ — যা পশ্চিম তীরের সবচেয়ে জনবহুল গভর্নরেট। ফলে এই অঞ্চল অবরুদ্ধ হলে তার প্রভাব পড়ে কয়েক লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
অবরোধ, উচ্ছেদ ও অভিযান চলমান থাকায় হেবরনের বাসিন্দাদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বানে সাড়া মেলে কি না এবং অবরোধ কত দিন চলবে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।



