মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হচ্ছে: আইসিসির উপ-প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) উপ-প্রসিকিউটর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা তাঁদের কর্মীদের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করলেও তা আদালতের কাজকে বাধাগ্রস্ত করেনি।
নতুন প্রধান প্রসিকিউটর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দপ্তরটি যৌথভাবে চালানো নাজহাত শামিম খান বলেছেন, আদালত এখন পর্যন্ত তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, গাজা যুদ্ধের তদন্তসহ অন্যান্য তদন্তে ২০২৪ সালের নভেম্বরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে; প্রসিকিউটরের আরও আবেদন আদালতের নির্দেশে গোপন রাখা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই মাসের শুরুতে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে আইসিসিকে ‘বেপরোয়া আদালত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি শেষ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে শেষ করব।’
নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ঘোষণার তারিখ ৯ অক্টোবর থেকে ছয় মাস পর, কিন্তু খান বলেন, কিছু কর্মী ইতিমধ্যে ব্যাংকিং সমস্যার মুখে পড়েছেন; চূড়ান্ত পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকগুলো ‘মাত্রাতিরিক্ত অনুগত’ আচরণ করছে।
ফিজির এই উপ-প্রসিকিউটর বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপিত এবং নীতিগতভাবে আমাদের সদস্যদের সরাসরি প্রভাবিত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু কর্মীদের কাছ থেকে শুনছি, তাঁদের কেউ কেউ ব্যাংকিংয়ে সমস্যায় পড়ছেন।’
আদালত নিজেকে রক্ষায় কাজ করছে: সফটওয়্যার মাইক্রোসফট থেকে ইউরোপীয় বিকল্পে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্য বিমা নিয়ে সেবাদাতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
খান বলেন, ‘সব পরিস্থিতির সব তদন্ত চলছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে সক্ষমতা বা কাজ কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি।’ তবে নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলে তার পূর্ণ প্রভাব আগে থেকে আন্দাজ করা অসম্ভব বলেও তিনি স্বীকার করেন।
নতুন নিষেধাজ্ঞা আইসিসির পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৩ জন কর্মীকে লক্ষ্য করেছিল; খান তাঁদের একজন, তাই ক্রেডিট কার্ড ছাড়া জীবনের অসুবিধার সঙ্গে তিনি পরিচিত।
তিনি বলেন, ‘ক্রেডিট কার্ড ছাড়া জীবন অসুবিধাজনক। ভ্রমণের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া আমরা কত কিছু করতে পারি না, তা অবাক করার মতো।’ তবে শরণার্থী শিবির বা গণহত্যার স্থান ঘুরে এলে নিজের অসুবিধা তুচ্ছ মনে হয় বলেও তিনি যোগ করেন: ‘আমরা ভুক্তভোগীদের মুখ দেখি, যাঁদের কাছে নিষেধাজ্ঞা আর ক্রেডিট কার্ড সম্পূর্ণ অর্থহীন। তাঁরা শুধু ন্যায়বিচার চান।’
নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও প্রসিকিউটরদের কাজে আরেকটি বিঘ্ন এসেছে: সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষে তদন্ত শুরু হয়; ব্রিটিশ এই আইনজীবী অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং এই বছরের জুলাইয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে তাঁকে অপসারণ করা হয়।
খান জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ফাইলের তদন্ত থেমে নেই; এই বছরের শুরুতে আদালতের রায়ে সব অভিযোগ ও পরোয়ানার আবেদন বিচারকদের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত গোপন রাখার নির্দেশ থাকায় বাইরে থেকে মনে হতে পারে কিছু হচ্ছে না।
রুবিও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় আইসিসিকে উদ্বেগ নিরসনে সমাধান উপস্থাপনের জন্য ছয় মাসের সময় দিয়েছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনকে কী সন্তুষ্ট করবে তা স্পষ্ট নয়।
এর মধ্যে এই মাসে আইসিসির প্রাক-বিচার চেম্বার তালেবানের সদস্যদের বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়নের অভিযোগে চারটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রকাশ করেছে।
আদালতের রেজিস্ট্রার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আটকাতে বা আদালতকে রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করছেন; বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট আদালত ও এর কর্মকর্তাদের সাখারভ পুরস্কার দিয়েছে।
খান বলেন, এই সোচ্চার সমর্থন কর্মীদের জন্য ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ বার্তা’, ‘এটা এমন এক আদালত, যা এমন ভুক্তভোগীদের ন্যায়ের পথ দেয়, যাঁদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।’





