হামের থাবা থামছেই না: একদিনে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ২২২
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২২২ জনে।
একই ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও এক হাজার ৬৫ শিশু। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এক হাজার ১৪ শিশু। অর্থাৎ প্রতিদিন শুধু পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী নয়, উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুর সংখ্যাও হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এক হাজার ১১৮ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু। দুই হিসাব মিলিয়েই মোট মৃত্যু এক হাজার ২২২ জনে পৌঁছেছে।
দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ২৩ হাজার ৩২৪ জন। এই বিশাল সংখ্যাই বলে দিচ্ছে প্রাদুর্ভাবটি কত বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে।
হাসপাতালের হিসাবও উদ্বেগজনক। মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। অর্থাৎ ভর্তি রোগীদের বড় অংশই সুস্থ হয়ে ফিরলেও প্রতিদিন নতুন ভর্তি ও মৃত্যুর চাপ কমছে না।
সুনামগঞ্জে হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যুর খবরও এসেছে এই সময়ে, যা দেখিয়ে দিচ্ছে প্রাদুর্ভাব রাজধানীকেন্দ্রিক নয়—দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ও প্রাণ হারাচ্ছে।
প্রতিদিনের এই মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা হামকে এখন দেশের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে পরিণত করেছে। আক্রান্তদের প্রায় সবাই শিশু হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে, আর হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিন কন্ট্রোল রুমের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আক্রান্ত, ভর্তি, ছাড়পত্র ও মৃত্যুর হালনাগাদ তথ্য জানাচ্ছে। সেই ধারাবাহিক তথ্যেই স্পষ্ট, সংক্রমণের গতি এখনো ঊর্ধ্বমুখী এবং প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসার লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে শিশুর জ্বরসহ হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রতিদিনের পরিসংখ্যান বলছে, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া শিশুর সংখ্যা নিশ্চিত রোগীর চেয়ে অনেক বেশি—ফলে সন্দেহ হলেই চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ পথ।
মোট সন্দেহজনক রোগী দুই লাখ ১৯ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরীক্ষা ও শনাক্তকরণের চাপও বাড়ছে। নিশ্চিত রোগী ২৩ হাজার ৩۲۴ জন হলেও উপসর্গযুক্ত রোগীর বিশাল সংখ্যার কারণে হাসপাতালভিত্তিক সেবার ওপর চাপ থেকেই যাচ্ছে।
এক হাজার ২২২ জনের মৃত্যুর এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি শিশু ও তার পরিবারের শোক। প্রাদুর্ভাব যত দীর্ঘ হচ্ছে, সেই শোকের তালিকাও তত লম্বা হচ্ছে।
এখন সবার নজর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিগুলোর দিকে—আক্রান্ত ও মৃত্যুর দৈনিক সংখ্যা কমতে শুরু করে কি না, সেটাই ঠিক করবে এই প্রাদুর্ভাবের মোড় কোন দিকে যাচ্ছে।






