ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের প্রস্তুতিতে নতুন সহকারী কোচ মাকেতার নিবিড় নজরে মুশফিক-মুমিনুল-শান্তরা
থ্রোয়ারের ছোড়া বল একের পর এক সামলাচ্ছেন মুমিনুল হক। তবে বল ছুড়ছেন কোনো সাধারণ থ্রোয়ার নন—তিনি বাংলাদেশ দলের নতুন সহকারী কোচ মালিবংওয়ে মাকেতা নিজে। অন্য নেটে পেসার এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং ঝালিয়ে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। শনিবার মিরপুরের একাডেমি মাঠে এমন দৃশ্যেই দেখা গেছে বাংলাদেশ দলকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে ঢাকায় ফিরেই প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছেন টাইগাররা। এখনও পুরো দল অনুশীলনে যোগ দেয়নি, তবে যাঁরা এসেছেন তাঁদের প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন নতুন কোচ মাকেতা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা পেছনে ফেলার চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের সামনে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন ক্রিকেটাররা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের এই সিরিজটি আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত, ফলে প্রতিটি ম্যাচের ফল বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করে।
শনিবার নেটে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করেছেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। টেস্টের মেজাজে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। একইভাবে অনুশীলন করেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমও।
তবে মুমিনুল হকের ব্যাটিংয়ের দিকে ছিল মাকেতার বিশেষ নজর। নতুন কোচের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন ক্রিকেটাররা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কিছুদিন আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাকেতাকে জাতীয় দলের নতুন সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ২০২৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করবেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের অনুশীলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন মাকেতা। ব্যাটারদের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে অনুশীলনের বিভিন্ন দিকে নজর দিচ্ছেন তিনি।
বোলিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন পেসার এবাদত হোসেন। দীর্ঘ রানআপে বল করে নিজের ছন্দ ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে পেস আক্রমণে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হতে পারে।
তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে এবাদতকেও প্রস্তুত হতে হবে। ঘরের মাঠের কন্ডিশনে পেস আক্রমণের সাফল্য সিরিজের ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা। তবে তার আগেই মাঠে নেমে পড়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। সিরিজের আগে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না তাঁরা।
জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার হতাশা এখন পেছনে ফেলার পালা। সামনে ভিন্ন ফরম্যাট আর আলাদা চ্যালেঞ্জ—ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ।
আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। এরপর ৫ নভেম্বর সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন পূরণ করতে হলে প্রতিটি সিরিজেই ভালো ফলের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।





