প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে নতুন বিনিয়োগের আশা, কপ-৩১ নিয়ে অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন টোকিও সফর দেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের ৩৩টি নাগরিক ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুত করা জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বৃহৎ পরিসরে জাপানি বিনিয়োগ নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর নতুন করে ঋণের বোঝা না চাপিয়ে উন্নত বিশ্বকে প্রতিশ্রুত অর্থায়ন অনুদান হিসেবে ছাড় করতে হবে।
বৈশ্বিক দরকষাকষির টেবিলে দেশের অধিকার আদায়ে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে জলবায়ুর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট তহবিল গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে জলবায়ু অভিযোজনে সক্রিয় রয়েছে। কপ-৩১ সম্মেলনে টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।
এছাড়া তহবিল বরাদ্দে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অভিযোজন ও প্রশমন উভয় খাতে সমান বরাদ্দ নিশ্চিতে বাংলাদেশ জোর দাবি জানাবে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ ফোকাল টিম গঠন করা হয়েছে, যেখানে পরিবেশ নিয়ে কর্মরত যুবসমাজকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
জাপান সফর ও কপ-৩১ — দুটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের প্রত্যাশা এখন বাস্তব ফলাফলের দিকে। ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফর শুরু হলে বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন চিত্র সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।





