মগবাজারে ভোরে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি: শিল্পী নিরাপদ, সিসি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং আসিফ আকবর নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গায়কের ভক্তরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দ্রুত ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
আসিফ আকবরের স্ত্রী বেগম সালমা আসিফ ঘটনাটি নিয়ে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি বলেন, “পাঁচ বছর পর। ভোর ৫টার ঘটনা... আল্লাহ পাক হেফাজতের মালিক, আমিন।”
বেগম সালমা আসিফের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে আরেকটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, “ভোর ৫টার দিকে মগবাজার বিশাল সেন্টার এলাকায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি টার্গেট করে গুলি করা হয়েছে। সে সময় উনি গাড়িতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এখন উনি নিরাপদে আছেন। আল্লাহ হেফাজতের মালিক।”
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত একটি কার্যালয় আছে মগবাজারে। তার ব্যক্তিগত গাড়িটি বিশাল সেন্টারের সামনে পার্কিং করা ছিল। ভোরের দিকে গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
কে এই গুলি চালিয়েছে, উদ্দেশ্য কী, তা এখনো জানা যায়নি। তবে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে আশপাশ এলাকার সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে হামলার পেছনের কারণ উদ্ঘাটন।
এদিকে এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। দেশের একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য হুমকিস্বরূপ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ধরনের অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ওই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
ভোরে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় একজন জনপ্রিয় শিল্পীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার এই ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ কত দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারে, সেদিকেই এখন সবার নজর।





