…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আন্তর্জাতিক › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের নির্বাচনে ব্যালটে নেই শান্তির প্রশ্নই: ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে মীমাংসার আলোচনা এড়িয়ে গেল সব পক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের প্রচারে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটিই প্রায় অনুপস্থিত — ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি ও রাজনৈতিক মীমাংসা। ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে গাজা যুদ্ধের মতো বিশাল ঘটনার পরও প্রচার চলছে মূলত অভ্যন্তরীণ ও ব্যক্তিগত ইস্যু এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে।

অথচ এই নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু ভোটাররা, যারা ঐতিহ্যগতভাবে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত, তাঁরাই হয়তো নির্ধারণ করে দেবেন কে প্রধানমন্ত্রী হবেন। তাঁরা মোট ভোটারের প্রায় ২০ শতাংশ। জটিল জোটের হিসাব অনুযায়ী, আরব দলগুলোই শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডান বিরোধী ব্লককে ক্ষমতায় বসাতে পারে।

তা সত্ত্বেও আরব দলগুলো কিংবা ইহুদি রাজনীতিকদের প্রচারে এই ফলাফল ইহুদি-আরব সম্পর্কের জন্য কী অর্থ বহন করবে, দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা কতটা, কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সমৃদ্ধিভিত্তিক শান্তিচুক্তির ভাবনা নিয়েও প্রায় কোনো আলোচনা নেই।

ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় ফিলিস্তিনি বিষয়ের সাবেক প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মাইকেল মিলশতেইন বলেছেন, ‘নির্বাচনী প্রচারটা ছিল অদ্ভুত। প্রচার কেন্দ্রীভূত হয়েছে অভ্যন্তরীণ ও ব্যক্তিগত ইস্যুতে, আর নেতানিয়াহুকে ঘিরে।’

তাঁর ভাষায়, এতে বাদ পড়েছে ‘আমাদের ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার অত্যন্ত গভীর ও জটিল সম্পর্কের বিষয়টি, এবং ৭ অক্টোবরের হামাস হামলা ও গাজা যুদ্ধের পর রাজনৈতিক মীমাংসার জন্য কী ধরনের পরিস্থিতি বা সমাধান বাকি আছে, সেই প্রশ্ন।’

ইসরায়েলের বাইরে, বিশেষ করে আরব নেতাদের মধ্যে, উদ্বেগ বাড়ছে এই কারণে যে, ইসরায়েল যেসব বহুমুখী সংঘাতে জড়িত, সেগুলো শেষ করার উপায় নিয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কই হচ্ছে না। অঞ্চল বিশেষজ্ঞ ভূরাজনৈতিক পণ্ডিত এইচএ হেলিয়ার বলেছেন, বাইরে থেকে এই নীরবতা ভবিষ্যতের জন্য ইঙ্গিতবহ।

হেলিয়ার বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু থাকুন বা না থাকুন, পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির ক্ষেত্রে ইসরায়েলিরা একটি নির্দিষ্ট গতিপথেই আছে।’ তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা নেতানিয়াহুকে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার জন্য দায়ী করলেও গাজা নীতির প্রশ্নে তাঁরা আসলে ভিন্ন কিছু বলছেন না; তাঁরা পশ্চিম তীরে বসতি প্রকল্পকে সমর্থন করেন, দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশকেও সমর্থন করেন — তাঁদের প্রস্তাব হলো, তাঁরা কাজগুলো আরও ভালোভাবে করতে পারতেন।

গাজা সংঘাতের উল্লেখ প্রচারে সীমাবদ্ধ থেকেছে মূলত একটি বিতর্কে — দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলা, যাতে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, তা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় কার। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ‘চেঞ্জ’ ব্লক নেতানিয়াহুর ভূমিকার দিকে আঙুল তুলেছে, বলেছে তাঁর সরকার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে। কিন্তু ব্লকটি নিজের শাসননীতির রূপরেখা প্রায় দেয়নি বললেই চলে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর প্রচার আইজেনকোটকে আরব দলনেতাদের, যেমন ইসলামি রা’আম দলের মানসুর আব্বাস ও তা’আল দলের আহমাদ তিবির ‘তুষ্টকারী ও পুতুল’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছে। অভিযোগ, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাঁদের সমর্থন নিতে গিয়ে আইজেনকোট মূল নিরাপত্তা প্রশ্নে ছাড় দেবেন।

জেরুজালেম পোস্ট এই সপ্তাহে এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ‘এত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনে প্রকৃত বিষয়বস্তুর অভাব একটি বড় সমস্যা।’ আলোচিত শান্তি বা দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে প্রায় নেই বলেই মনে করছেন বেশির ভাগ পর্যবেক্ষক।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট, যিনি নেতানিয়াহুর কট্টর সমালোচক, বলেছেন গাজা যুদ্ধ হামাসকে কতটা দুর্বল করেছে তা নিয়ে বিতর্ক হলেও ‘এটা সত্যি যে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আমাদের ভবিষ্যতের মূল প্রশ্নটি উপেক্ষিত হয়েছে। আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে সারাক্ষণ এই বিষয়েই কথা বলতাম।’ তাঁর মতে, এর মূলে রয়েছে ৭ অক্টোবরের বিশাল মানসিক আঘাত এবং জনমত আরও ডানদিকে সরে গেছে বলে ধারণা।

ওলমার্ট অবশ্য এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন লিকুদ দল সংসদে আসন ৩২ থেকে কমে প্রায় ২০-এ নেমে আসতে পারে। তবু দলগুলো ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, আলোচনা কিংবা দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা করছে, পাছে সমর্থন হারায়।

জরিপগুলোতে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ইহুদি-ইসরায়েলিদের বিপুল সমর্থন দেখা যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জরিপে প্রাথমিক হামলার পক্ষে সমর্থন ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল, আর প্রায় ৮০ শতাংশ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর সামরিক চাপ ধরে রাখার পক্ষেও বিপুল সমর্থন রয়েছে।

পশ্চিম তীরে সাবেক ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত স্ভেন বুর্গসডর্ফ অবশ্য ওলমার্টের সঙ্গে একমত নন। তাঁর যুক্তি, গাজা কিংবা দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রশ্নে নেতানিয়াহু ও মধ্য-ডান ‘চেঞ্জ’ ব্লকের নেতাদের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তিনি বলেছেন, আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট, ইয়াইর লাপিদ ও আভিগদর লিবারম্যানদের কেউই গাজা যুদ্ধে সেনাবাহিনীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না, ফিলিস্তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণকেও সমর্থন করেন না।

ওলমার্ট এখনো নেতানিয়াহুর পরাজয়ের আশা করছেন। তাঁর ধারণা, আইজেনকোট ক্ষমতায় এলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাতের মতো সমঝোতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে মন্ত্রিসভায় বেনেট ও লিবারম্যান থাকলে বড় বা দ্রুত কিছু করার সুযোগ সীমিত থাকবে, কারণ দুজনেই ফিলিস্তিনি সার্বভৌমত্বের ধারণার সম্পূর্ণ বিরোধী।

শেষ পর্যন্ত সতর্কবার্তাটি স্পষ্ট — দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের দিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি না হলে ইসরায়েল ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে তার ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের আরও দূরে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। শান্তির প্রশ্নটি ব্যালটে না থাকলেও নির্বাচনের পর তা ইসরায়েলের সামনে ফিরে আসবেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরে পূর্ণ অবরোধ: অন্তত ১৫ শহরে ইসরায়েলি অভিযান, আটক কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে পূর্ণ অবরোধ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অন্তত ১৫টি শহর ও জনপদে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব অভিযানে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে…

আন্তর্জাতিক

আল-আকসা মসজিদের খতিবকে গ্রেপ্তার করল ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী

আল-আকসা মসজিদের খতিবকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। মুসলমানদের কাছে তৃতীয় পবিত্রতম এই মসজিদের একজন শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে আটকের ঘট…

আন্তর্জাতিক

তাইওয়ানে টাইফুন চম্পির আঘাতে নিহত ১, আহত বেড়ে ৫২৭, দেড় লাখের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

শক্তিশালী টাইফুন চম্পি শনিবার তাইওয়ান পেরিয়ে যাওয়ার সময় একজন নিহত ও ৫২৭ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দুর্বল হতে থাকা ঝড়টি এখন চীনের উপকূলের দিকে …

আন্তর্জাতিক

আখের মাঠে কাজ ধরে রাখতে জরায়ু বিসর্জন দিচ্ছেন ভারতের নারী শ্রমিকরা

কর্ণাটকের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা রামানালে ভোর চারটায় দিন শুরু হয় পূর্ণিমার। অস্থায়ী তাঁবু থেকে বেরিয়ে পুরুষদের জাগার আগেই তিনি গোসল সেরে নেন, তার…