হবিগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ২৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাদ ধসের আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
হবিগঞ্জ জেলায় ২৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের ভবন নিয়ে ছাদ ধসের আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় ছোট ছোট শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় মানেই পাঁচ থেকে এগারো বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিনের পাঠশালা। সেই বয়সের শিশুরা নিজেরা বিপদ আঁচ করতে পারে না, সরে যাওয়ার সামর্থ্যও তাদের সীমিত। ফলে একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার অর্থ শুধু একটি স্থাপনার সমস্যা নয়, প্রতিদিন শত শত শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্ন।
ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় এত বিপুল সংখ্যক বিদ্যালয় থাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অবকাঠামোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি আর সংস্কারের ধীরগতি মিলেই সাধারণত এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে শ্রেণিকক্ষে বসেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।
ছাদ ধসের আতঙ্কের বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগের। বর্ষা ও ভারী বৃষ্টির সময় দুর্বল ছাদে পানি জমে ঝুঁকি আরও বাড়ে। আতঙ্কের কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যেই সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে দ্বিধা তৈরি হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনায়।
শিক্ষকদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন। একদিকে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিশুদের সামলানো — দুটোই তাদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করে। কোনো ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হলে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা ছাড়া পাঠদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
এমন তালিকা প্রকাশের পর স্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকে, ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোকে ভাগ করে সবচেয়ে বিপজ্জনক ভবনগুলোর ক্ষেত্রে আগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও সাময়িকভাবে ক্লাস সরিয়ে নেওয়া, কোথাও জরুরি সংস্কার, আবার কোথাও নতুন ভবন নির্মাণ — প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রয়োজন এক রকম নয়।
সিলেট বিভাগের অন্য জেলাগুলোর অভিজ্ঞতাও বলছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংকট শুধু হবিগঞ্জের একার সমস্যা নয়। তবে এক জেলাতেই ২৫৯টি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সংখ্যাটি এই সমস্যার গভীরতা স্পষ্ট করে দেয়।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা, তালিকা তৈরির মধ্যেই যেন বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থাকে। কোন বিদ্যালয়ে কবে সংস্কার শুরু হবে, সংস্কারের সময় শিশুরা কোথায় পড়বে — এসব বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য পেলে আতঙ্ক অনেকটাই কমতে পারে।
শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে দেরি করার সুযোগ কম। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন ক্লাস চলা মানে প্রতিদিনই ঝুঁকি বয়ে বেড়ানো। তাই জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন, ঝুঁকি যাচাই ও অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কারই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়, ২৫৯টি বিদ্যালয়ের এই তালিকা ধরে কত দ্রুত বাস্তব ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আতঙ্ক কাটিয়ে শিশুরা কত তাড়াতাড়ি নিরাপদ শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারে।


