ক্রিপ্টো কেলেঙ্কারিতে মিলেইয়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতির তদন্ত বন্ধ করলেন আর্জেন্টিনার বিচারক
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ও তাঁর বোন কারিনা মিলেইয়ের বিরুদ্ধে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সির পতন নিয়ে চলা ফৌজদারি তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন দেশটির একজন ফেডারেল বিচারক। অনলাইনে মিলেই যে টোকেনটির প্রচার করেছিলেন, সেটির উদ্বোধনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছিল।
বিচারক মার্সেলো মার্টিনেজ দে জর্জি শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত দেন বলে আদালতের নথিতে জানা গেছে। এর মধ্য দিয়ে সংক্ষিপ্ত উত্থানের পর ভেঙে পড়া ‘$লিব্রা’ টোকেনের উদ্বোধনে মিলেইয়ের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের অবসান হলো।
রায়ে বিচারক লিখেছেন, ‘প্রতিবেদিত ঘটনাগুলো কোনো ফৌজদারি অপরাধ গঠন করে না।’ তিনি আরও লিখেছেন, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি এবং মুদ্রাটির দামের উত্থান-পতন জালিয়াতি প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়।
মার্টিনেজ দে জর্জি রায়ে বলেছেন, টোকেনটি নিয়ে পোস্ট করার সময় মিলেইয়ের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান উদ্বোধনটিকে ‘বড় প্রভাব’ দিয়ে থাকতে পারে, তবে তা কোনো জালিয়াতিমূলক পরিকল্পনায় রূপ নেয় না।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্বল্পপরিচিত এই মিম কয়েনটির সুপারিশ করেছিলেন মিলেই। পরে তিনি পোস্টটি মুছে দেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিটির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক অস্বীকার করেন; এর পরপরই এর মূল্য ধসে পড়ে।
বিচারক যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী হেইডেন ডেভিসের বিরুদ্ধে তদন্তও খারিজ করেছেন। ডেভিস নিজেকে টোকেনটির ‘উদ্বোধন উপদেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ধসের পর তাঁর কাছে প্রায় ১০ কোটি ডলার ছিল, তবে কোনো অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্টের দপ্তরের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন প্রেসিডেন্টকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হলো, এবং ফল হলো তাঁর নির্দোষিত্বের পরম প্রমাণ।’
ওই পোস্টে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘এবার প্রশ্ন হলো: একটি ব্যর্থ প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যুত্থানের চেষ্টায় আর্জেন্টিনার করদাতাদের অর্থ এবং প্রেসিডেন্টের সময় নষ্ট করার দায়িত্ব কে নেবে?’
মিলেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন। ট্রাম্প এক বছর আগে তাঁকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়েছিলেন এবং তাঁকে নিজের ‘প্রিয় প্রেসিডেন্ট’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছিলেন, এই সমর্থন মিলেইয়ের দলের বিজয়ের ওপর নির্ভরশীল। গত বছর আর্জেন্টিনার নেতার সঙ্গে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজের আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এই মানুষটির সঙ্গে আছি, কারণ তাঁর দর্শন সঠিক। তিনি জিতলে আমরা তাঁর সঙ্গে থাকব। না জিতলে আমরা চলে যাব।’
এই মাসের শুরুতে মিলেই ট্রাম্পকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন; তাঁর ভাষায়, এই ভোট সমগ্র পশ্চিমা বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মিলেই হাজার হাজার সরকারি কর্মী ছাঁটাই করেছেন, মন্ত্রণালয় বন্ধ করেছেন, ভর্তুকি কমিয়েছেন এবং সরকারি অর্থায়নের কর্মসূচি সংকুচিত করেছেন। এসব পদক্ষেপ ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ; মূল্যস্ফীতি এখন মাসে প্রায় ২ শতাংশে নেমে এসেছে।
মিলেই বলছেন, তাঁর পরিকল্পনা কাজ করছে — তাঁর দাবি, আর্জেন্টিনা টানা ২৭ মাস ধরে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং ঐতিহাসিক হারের চার গুণ গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। মুদ্রাটির ধসের সময় মিলেই বলেছিলেন, তিনি ‘সদ্ভাবনায়’ কাজ করেছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন। তদন্ত বন্ধের এই রায়ে সেই বিতর্কের আইনি অধ্যায় আপাতত শেষ হলো।





