অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মুখে পার্লামেন্টে যাচ্ছেন না অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস সিনেটর স্টিল-জন, চলছে স্বাধীন তদন্ত
অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস দলের সিনেটর জর্ডন স্টিল-জন নিশ্চিত করেছেন, আগামী সপ্তাহে তিনি পার্লামেন্টে যোগ দেবেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর কয়েক দিনের বিভ্রান্তি ও বিতর্কের পর শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিবরণ সংবলিত একটি চিঠিও তিনি প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার এই সিনেটর জানান, তিনি সিনেটের এস্টিমেটস শুনানিতে ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু তাঁকে জানানো হয়েছে সেটাও ‘গ্রহণযোগ্য হবে না’। এর বদলে তিনি এখন স্বাধীন তদন্তটি শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়ার দিকেই মনোযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।
স্টিল-জন বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে না যাওয়ার জন্য আমার ওপর আহ্বান বাড়ছিল। আমি ডিজিটালি যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছি, কিন্তু আমাকে জানানো হয়েছে সেটাও গ্রহণযোগ্য হবে না।’ তাঁর ভাষ্য, ‘অভিযোগের অভিযোগ’ তোলা হলেই একজন পার্লামেন্ট সদস্যকে পার্লামেন্টের বাইরে রাখার নজির এখন তৈরি হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দায়ের করা হতো, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গেই এই পদক্ষেপগুলো নিতাম।’ অর্থাৎ তাঁর দাবি, আনুষ্ঠানিক অভিযোগের আগেই তাঁকে এই অবস্থানে যেতে হচ্ছে।
৩২ বছর বয়সী এই সিনেটরের বছরের বাকি সময় পার্লামেন্টে উপস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল দলের নেতা ডেভিড শুব্রিজের সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধের পর। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নারীদের প্রতি অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলাকালে তিনি ছুটিতে আছেন কি না—এই প্রশ্নেই নেতার সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েন তৈরি হয়।
অভিযোগগুলো এখন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া গ্রিনসের উদ্যোগে চালু একটি স্বাধীন তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং বিষয়টি ইন্ডিপেনডেন্ট পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ফলে দলের ভেতরের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পার্লামেন্টারি মানদণ্ডের আনুষ্ঠানিক কাঠামোতেও এখন বিষয়টি বিচারাধীন।
শুব্রিজের দাবি, স্টিল-জন নিজেই ছুটি চেয়েছিলেন এবং গত সপ্তাহে তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। সাতজন দলীয় সদস্য নেতাকে চিঠি লিখে অভিযোগগুলোর তদন্তের আহ্বান জানানোর পরই এই সিদ্ধান্ত আসে বলে তিনি জানান।
১৩ অক্টোবর পাঠানো তিন পৃষ্ঠার ওই চিঠিটি প্রথম প্রকাশ করে নাইন পত্রিকাগুলো। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা লিখেছেন, নারীদের উপস্থিতিতে স্টিল-জনের আচরণ নিয়ে ‘গুরুতর অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ’ সম্পর্কে তাঁরা অবগত হয়েছেন।
চিঠির একটি অংশে ২০২৪ সালে গ্রিনসের একটি প্রচার অনুষ্ঠানে যৌন হয়রানির একটি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী বলে দাবি করা ব্যক্তি ভয় ও প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় বিষয়টি জানাননি। তবে চিঠিতে এর বেশি বিস্তারিত কিছু দেওয়া হয়নি। আরেকটি অংশে ২০২৫ সালে ‘গুরুতর যৌন অসদাচরণের’ একটি অভিযোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
চিঠিতে স্টিল-জনকে নিয়ে একটি অবমাননাকর ডাকনামের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে; স্বাক্ষরকারীদের ভাষ্য, ওই নামটি ইঙ্গিত করে যে অনুপযুক্ত আচরণের জন্য তাঁর একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। তবে স্বাক্ষরকারীরা স্পষ্ট করে লিখেছেন, ‘সব স্বাক্ষরকারী জানেন যে একটি অভিযোগ মানেই তা সত্য বা অপরাধ প্রমাণিত নয়। আমরা শুধু বিশ্বাস করি, প্রতিটি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা দলের স্বার্থেই জরুরি—সমাজ ও সদস্যদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।’
গত রোববার দীর্ঘ এক বিবৃতিতে স্টিল-জন অবশ্য দৃঢ় অবস্থান নেন। তিনি অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেন, পার্লামেন্ট থেকে ছুটি নিতে সম্মত হওয়ার দাবি অস্বীকার করেন এবং চিঠিটি গণমাধ্যমে প্রকাশের সিদ্ধান্তের জন্য দলের ভেতরের একটি অংশকে ‘কদর্য রাজনৈতিক খেলা’ খেলার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো ‘ন্যায্যভাবে ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে’ তদন্ত হওয়া উচিত, কিন্তু ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া শাখার একটি ‘অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠী’ তাঁকে সিনেট থেকে সরাতেই চিঠিটি গণমাধ্যমে দিয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যে আরেকটি তথ্য সামনে এসেছে—ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া পুলিশ স্টিল-জনকে জানিয়েছিল, মে মাসে কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই তদন্তটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন নজর স্বাধীন তদন্ত ও পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনের প্রক্রিয়ার দিকে; সেসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পার্লামেন্টে ফেরা অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।





