চার্লি কার্ক হত্যা মামলায় বিচারের তারিখই ঠিক হলো না, বিধবার আইনজীবীর আবেগঘন আর্জি
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় চার্লি কার্ক হত্যা মামলার বিচার কবে শুরু হবে, তা এখনো ঠিক হলো না। শুক্রবার প্রোভোতে শুনানি শেষে অভিযুক্ত টাইলার রবিনসনের বিচারের কোনো তারিখ ঘোষণা করেননি বিচারক; দুই পক্ষ ও নিহতের বিধবার আইনজীবীর মধ্যে সময় নিয়ে তুমুল বাদানুবাদ হয়েছে।
২৩ বছর বয়সী রবিনসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত বছর টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর একটি অনুষ্ঠানে তিনি চার্লি কার্ককে হত্যা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর হত্যাসহ মোট সাতটি অভিযোগ রয়েছে; ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, ইউটা ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
হালকা ধূসর স্যুট পরে আদালতে হাজির রবিনসন হাতকড়া বা শিকল ছাড়াই ছিলেন; তিনি আদালতের উদ্দেশে কিছু বলেননি। বিরতির সময় তিনি আইনজীবী রিচার্ড নোভাক, ক্যাথি নেস্টার ও স্ট্যাসি ভিসারের সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলেন, একপর্যায়ে ভিসারের হাতে একটি নোটও দেন।
বিচারক টনি গ্রাফ জুনিয়র বলেন, শুনানি শেষে বিচারের তারিখ ঠিক করার পরিকল্পনা তাঁর ছিল; কিন্তু দুই পক্ষের প্রত্যাশিত সময়সীমা ও অন্য মামলায় আগে থেকে নির্ধারিত বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন করার পর তাঁর আরও সময় দরকার।
প্রায় তিন ঘণ্টার শুনানিতে ওয়েবএক্সের কারিগরি সমস্যার কারণে কয়েকবার বিঘ্ন ঘটে। রবিনসনের আইনজীবী মাইকেল বার্ট এবং কার্কের বাবা-মা রবার্ট ও ক্যাথির একজন আইনজীবী দূর থেকে যুক্ত ছিলেন।
ইউটা কাউন্টির প্রসিকিউটররা বিচারের তারিখ হিসেবে ২০২৮ সালের ৩১ জানুয়ারির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে বলেছেন তাঁরা ২০২৭ সালের অক্টোবরেই প্রস্তুত থাকতে পারবেন।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষ ২০২৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে একটি ‘নমনীয় লক্ষ্য’ তারিখ চেয়েছে। তাদের যুক্তি, বিপুল পরিমাণ সাক্ষ্য-প্রমাণ (ডিসকভারি) ও বিচার-প্রস্তুতি রয়েছে, পাশাপাশি অন্য মামলায় বিচারের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
এর মধ্যে একটি মামলা প্রসিকিউশনের চাওয়া তারিখের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক — আইনজীবী নোভাকের একটি ফেডারেল র্যাকেটিয়ারিং মামলার বিচার নির্ধারিত ২০২৮ সালের ১০ জানুয়ারি।
দুই পক্ষই একমত হয়েছে, ছুটির মৌসুম জুড়ে চলা বিচার সম্ভাব্য জুরি সদস্য ও সাক্ষীদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কার্কের বিধবা এরিকার আইনজীবী জেফরি নেইমান আদালতে বলেন, ‘এত দীর্ঘ বিলম্বিত ন্যায়বিচার কার্ক পরিবারের জন্য আর ন্যায়বিচার থাকে না।’ নেইমান উল্লেখ করেন, ফেডারেল মামলার মাত্র প্রায় ৫ শতাংশই আসলে বিচার পর্যন্ত যায়, এবং কার্ক পরিবার আনন্দের সঙ্গে ফেডারেল বিচারককে চিঠি লিখে জানুয়ারির মামলাটি পুনঃনির্ধারণের অনুরোধ করবে, যাতে রবিনসনের আইনজীবী মুক্ত থাকেন।
ইউটার রাজ্য সংবিধান অনুযায়ী ভুক্তভোগী ও তাঁদের প্রতিনিধিদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির অধিকার রয়েছে; এরিকা কার্ক এই মামলায় আদালত-মনোনীত ভুক্তভোগী প্রতিনিধি।
নোভাক আদালতকে বলেন, ওই বিচারের তারিখ ‘পাথরে খোদাই করা’ এবং রবিনসনের মামলায় তাড়াহুড়োর বিরুদ্ধে যুক্তি দেন। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, বিচারে তাড়াহুড়ো করলে সমাপ্তি আসে না, চূড়ান্ততাও আসে না; আসে ভুল।’
সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর ফ্রেড টেচে ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ২০২৯ সালে বিচার চাওয়া প্রতিরক্ষার একটি বিলম্ব-কৌশল; তিনি উল্লেখ করেন, ইউটার আইনে ভুক্তভোগীদের দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে।
বিচারক গ্রাফ উদ্বেগ প্রকাশ করেন, শিগগির তারিখ ঠিক না করলে আরও সংঘাত তৈরি হতে পারে। প্রধানত ফৌজদারি প্রতিরক্ষা আইনজীবী নেইমান বারবার আদালতকে গতি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন; তাঁর ভাষায়, ‘সময়ই প্রতিরক্ষার সেরা মিত্র, তাদের সেরা বন্ধু।’ তিনি আরও বলেন, বিচার যখনই হোক, চার্লি কার্ক তাঁর পরিবারের সঙ্গে বড়দিন কাটাতে পারবেন না। ‘মাননীয় আদালত, আপনি তারিখ ঠিক করলেই তা হবে; দয়া করে ঠিক করুন,’ বলেন তিনি।
বিচারক গ্রাফ পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন সোমবার ৯ নভেম্বর, দুপুর ১টা (মাউন্টেন টাইম); সেদিন তিনি তাঁর রায় পড়ে শোনাবেন বলে জানিয়েছেন। মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রয়েছে, ফলে বিচারের তারিখ নিয়ে এই টানাপোড়েন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।





