বিসর্জন দিয়ে ফেরার পথে নদীতে পড়ে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ মিলল ৩৬ ঘণ্টা পর
প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বংশাই নদীতে নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া যুবক বিজয় চন্দ্র কোচের (২০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে পার্শ্ববর্তী বাসাইল উপজেলার ডুমনিবাড়ি জামে মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় নদীতে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।
পরে মরদেহটি দাড়িয়াপুরের দোপাপাড়া এলাকায় নেওয়া হলে পরিবারের সদস্যরা বিজয়কে শনাক্ত করেন। শনাক্তের মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় দিন ধরে চলা উদ্বেগ ও অপেক্ষার অবসান ঘটে পরিবারটির জন্য, যদিও সেই অবসান এসেছে সবচেয়ে বেদনাদায়ক পরিণতির মধ্য দিয়ে।
বিজয় চন্দ্র কোচ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ধোপারচালা গ্রামের খনিন্দ্র চন্দ্র কোচের ছেলে। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই যুবকের বাড়ি ফেরার যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন শেষে রতনগঞ্জ থেকে নৌকায় করে বাড়ি ফিরছিলেন বিজয়। বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আরও অনেকের মতো তিনিও নদীপথেই ফিরছিলেন।
পথে গোয়ালবাড়ি-সংলগ্ন বংশাই নদীতে নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি। কীভাবে তিনি নৌকা থেকে পড়ে গেলেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি; তবে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলেন না।
এ ঘটনার পরদিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা দিনব্যাপী নদীতে তল্লাশি চালান। ডুবুরি ও স্থানীয়দের যৌথ সেই তল্লাশিতেও সেদিন তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে রাত পেরিয়ে পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে।
অবশেষে নিখোঁজের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে বাসাইল উপজেলার জলসীমায় তার মরদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয়রা প্রথমে মরদেহটি দেখতে পান ডুমনিবাড়ি জামে মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অর্থাৎ মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিসর্জন ঘিরে নদীপথে চলাচলের সময় এমন দুর্ঘটনা পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণের এভাবে প্রাণ হারানো ধোপারচালা গ্রামে শোকের ছায়া ফেলেছে।
এখন পরিবারের সদস্যদের শনাক্তের পর মরদেহ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা। পুলিশ বলেছে, প্রক্রিয়াধীন আইনি কার্যক্রম শেষ হলেই এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


