তিগ্রাইয়ে বিদ্রোহীদের অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান: মেকেল্লে হারানোর পর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা কমান্ডারের
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রাই অঞ্চলে নবগঠিত সরকার-সমর্থিত প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিদ্রোহীদের অস্ত্র ত্যাগ করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিগ্রাইয়ের রাজধানী মেকেল্লে হারানোর কয়েক ঘণ্টা পর বিদ্রোহী কমান্ডার যখন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন, তখনই এই আহ্বান এলো।
শুক্রবারের এই আহ্বানের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিগ্রাই সেনাবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে পরিচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফিসেহা কিদানু তার যোদ্ধাদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। নতুন বিদ্রোহী টেলিভিশন স্টেশন তিগ্রাই ব্রডকাস্ট মিডিয়ায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক বিপর্যয় উল্টে দিতে হবে।
অক্টোবরের শুরুতে সরকার-সমর্থিত যোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করে ইথিওপিয়ার সরকার উৎখাতে বিদ্রোহীদের প্রচেষ্টা চুরমার করলে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) যোদ্ধারা মেকেল্লে থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।
এরপর ইথিওপিয়ার সরকার তিগ্রাইয়ে ছয় মাসের একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন বসায়, যাদের দায়িত্ব সেবা পুনরুদ্ধার করা, বাস্তুচ্যুত মানুষকে ফেরত আনা এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া।
কিন্তু লড়াই পুরোপুরি থামেনি। মেকেল্লের বাসিন্দারা মঙ্গলবার একটি ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছেন, যেখানে ট্রাকে ছাগল তোলার সময় চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হতাহতের এই খবর স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
নতুন তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রেদায়ে হালেফম ওলদেসেলাসি মেকেল্লেতে বলেন, বিদ্রোহী বাহিনী ভেঙে পড়ছে এবং যোদ্ধাদের অস্ত্র ত্যাগ করা উচিত।
তার ভাষায়, 'এখন প্রতিশোধ নেওয়ার সময় নয়—আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা আপনাদের বাড়িতে ফিরে যান এবং আবার বেসামরিক জীবন শুরু করুন।'
বিদ্রোহীদের শহর পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এই সংঘাত একটি ছোট নেতৃত্বের স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে, তিগ্রাইয়ের জনগণের স্বার্থে নয়।
অন্যদিকে ফিসেহা কিদানু তার অবস্থান প্রকাশ না করে টেলিভিশন বক্তব্যে বলেন, শত্রুর ড্রোন ও ভারী অস্ত্রের সুবিধা সত্ত্বেও সরকার-নিয়ন্ত্রিত অবস্থানে হামলার আহ্বান তিনি জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, 'এই অঞ্চলের স্থানীয় মিলিশিয়াদের—প্রতিরোধে যোগ দেওয়া সব স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি—শত্রুপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধে নামার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।'
টিপিএলএফ সরকারি বাহিনীর ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবিও করেছে। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সরকারের মিত্রদের মধ্যে রয়েছে তিগ্রাই পিস ফোর্স—টিপিএলএফের সশস্ত্র শাখার সাবেক সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি বাহিনী, যারা তিগ্রাই বাহিনীর ভেতরে বিভক্তি জটিল করেছে এই পুনর্নবায়িত সংঘাতকে।
রেদায়ে বলেন, ইথিওপিয়ার সেনা ও মিত্র বাহিনী লুটপাট রোধসহ যৌথ নিরাপত্তা অভিযান চালাচ্ছে। বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের ফেরত আনার প্রস্তুতির প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি কোনো সময়সূচি দেননি।
সোমবার ইথিওপিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী আবিয় আহমেদ টিপিএলএফকে ২০২২ সালের নভেম্বরের প্রিটোরিয়া শান্তি চুক্তির শর্তানুযায়ী অস্ত্র ত্যাগ না করে তরুণদের জোর করে যুদ্ধে নিয়োগের অভিযোগ করেন।
পুনর্নবায়িত এই লড়াই কার্যত সেই চুক্তিকে চুরমার করে দিয়েছে, যা ২০২০-২০২২ সালের ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল। বেলজিয়ামের গেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হিসাবে, সহিংসতা, দুর্ভিক্ষ ও ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে ওই যুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
এখন দেখার বিষয়, তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের শান্তির আহ্বান মাঠপর্যায়ে সাড়া জাগায় কিনা, নাকি ফিসেহা কিদানুর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ডাকে নতুন করে রক্তপাত শুরু হয় তিগ্রাইয়ে।



