সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানে পর্যটকের জোয়ার, সিএনজি ভাড়া নিয়ে ভোগান্তি
সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকায় পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। চা বাগানের সবুজ পরিবেশ দেখতে আসা দর্শনার্থীদের আগমনে এলাকাটিতে এক ধরনের জোয়ার তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে পর্যটকদের এই বাড়তি আগমনের সঙ্গে সঙ্গে যাতায়াত নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যের কথা বলছেন এলাকায় আসা মানুষজন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত কোনো ভাড়ার তালিকা কার্যকর না থাকায় চালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া দাবি করছেন। পর্যটকের ভিড় বাড়লেই এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
লাক্কাতুরা চা বাগান সিলেট শহরের কাছাকাছি হওয়ায় স্বল্প সময়ের ভ্রমণের জন্য অনেকেই এই এলাকাটি বেছে নেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়লে এলাকার সড়ক ও যানবাহনের ওপর চাপও বাড়ে।
ভাড়া নিয়ে এই বিশৃঙ্খলায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা। স্থানীয় ভাড়ার হার সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তাঁদের অনেক সময় দাবি করা ভাড়াই দিতে হচ্ছে।
এলাকার মানুষের মতে, পর্যটন এলাকা হিসেবে লাক্কাতুরার পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। ভাড়া নির্ধারণ ও তদারকি না থাকলে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পর্যটকদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট স্থানে ভাড়ার তালিকা টাঙানো এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে নজরদারির দাবি উঠেছে। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চা বাগানকেন্দ্রিক পর্যটন সিলেটের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দর্শনার্থীদের আগমন বাড়লে স্থানীয় দোকানপাট ও পরিবহন খাতে আয়ের সুযোগ তৈরি হয়, যদিও ভাড়া নিয়ে অভিযোগ সেই সম্ভাবনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
সব মিলিয়ে লাক্কাতুরায় পর্যটকের জোয়ার যেমন এলাকাটির আকর্ষণ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনি যাতায়াতের ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।



