৯১১ কলে ফিসফিস করে ‘সাহায্য করুন’: ওহাইওর বাড়িতে শিশু ও তার দাদা-দাদির গুলিবিদ্ধ মরদেহ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি বাড়ি থেকে ২২ মাস বয়সী এক শিশু ও তার দাদা-দাদির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ফিসফিস করে ‘সাহায্য করুন’ বলা একটি রহস্যজনক ৯১১ কলের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা ওই বাড়িতে পৌঁছান। ঘটনাটি ঘটেছে গনাডেনহাটেন এলাকায়।
টাসকারাওয়াস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার তারা একটি ৯১১ কল পান, যেখানে একটি কণ্ঠ মৃদুস্বরে ‘সাহায্য করুন’ শব্দটি বলে। সেই কলের পর পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
বাড়ির ভেতরে তারা তিনজনকে নিহত অবস্থায় পান। নিহতরা হলেন ২২ মাস বয়সী কোজ্জার লোটুট, ৫১ বছর বয়সী মেলিসা ক্যাম্পবেল এবং ৬৭ বছর বয়সী গেইল স্যান্ডার্স। টাসকারাওয়াস কাউন্টি করোনারের কার্যালয় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। প্রত্যেকের শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
কাউন্টি শেরিফ অরভিস এল. ক্যাম্পবেল বলেছেন, মৃত্যুগুলো হত্যা-আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এখন যদি আমাকে বলতে হয় প্রমাণ কোন দিকে ঝুঁকছে, তা অবশ্যই হত্যা-আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে। আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে ঘটনাটি বাড়ির ভেতরেই ঘটেছে।”
শেরিফ জানান, শিশুটিকে তার দাদা-দাদিই লালন-পালন করতেন। শিশুটির শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফলে এ ঘটনায় পরিবারটির পরিচিত মহলে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কীভাবে পুলিশ সদস্যরা ওই বাড়িতে পৌঁছালেন, তার বিবরণও পাওয়া গেছে। প্রথমে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ৯১১ নম্বরে কল করে ফোন রেখে দেন। ডিসপ্যাচাররা কয়েকবার ওই নম্বরে ফের কল করেন। এর একটিতে কেউ ফোন ধরে মৃদুস্বরে শুধু ‘সাহায্য করুন’ শব্দটি বলেন।
এরপর তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা লাইনটির সূত্র ধরে ছোট ওই জনপদের চেরি স্ট্রিটের একটি বাড়িতে পৌঁছান। বাড়িটির অবস্থান নর্থ চেরি স্ট্রিটে বলে জানা গেছে।
বাড়িতে পৌঁছানোর পর এক প্রপিতামহী দরজা খুলে তদন্তকারীদের ভেতরে ঢুকতে দেন। ভেতরে গিয়েই তারা তিনজনের মরদেহ দেখতে পান।
মেলিসা ক্যাম্পবেল নিউ ফিলাডেলফিয়া হেলথ কেয়ার সেন্টারে নিবন্ধিত নার্স হিসেবে কাজ করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার কর্মস্থল নিয়ে চূড়ান্ত তথ্য এখনো তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাসকারাওয়াস কাউন্টি করোনারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর ধরন ও কারণ এখনো ‘অপেক্ষমাণ’ বলে করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে। কার্যালয়টি বলেছে, “যথাযথ সময়ে এবং প্রাপ্যতা অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে।”
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, বাড়ির ভেতরের ঘটনাপ্রবাহ পুরোপুরি বুঝতে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের ফল ও তদন্তের অগ্রগতি পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।






