আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যু: মিনেসোটার সঙ্গে প্রমাণ ভাগ করা বন্ধ করল ওয়াশিংটন
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রমাণ ভাগ করা বন্ধ করে দিয়েছে। রাজ্যের তদন্তকারীরা ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছেন। সাম্প্রতিক আদালত নথিতে রাজ্যের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে মিনেসোটায় অভিবাসনবিরোধী ও বিক্ষোভবিরোধী কঠোর অভিযান চলাকালে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে গুড ও প্রেত্তি নিহত হন। এই দুই হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পেতে মার্চ মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ।
৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড জানুয়ারিতে একটি বিক্ষোভের সময় গাড়ি চালিয়ে সরে যাওয়ার মুহূর্তে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) এক ফেডারেল কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন। চলতি মাসের শুরুতে তার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারও মামলা করেছে।
অ্যালেক্স প্রেত্তির বয়সও ছিল ৩৭ বছর। কঠোর অভিবাসী-দমন অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভের সময় বরফে ঢাকা শহরের রাস্তায় আরেক বিক্ষোভকারীর সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ার সময় বর্ডার প্যাট্রোলের এক এজেন্টের গুলিতে তিনি রাস্তায়ই নিহত হন। বর্ডার প্যাট্রোল (সিবিপি) ও আইস—দুটিই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন।
মার্কিন নাগরিক এই দুই বিক্ষোভকারীর গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু সরকারের অবস্থানে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মিনিয়াপোলিসে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে মুখোশ পরা, সামরিক সাজে সজ্জিত ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহিংস তৎপরতা চলছিল; স্থানীয় নেতারা একে ‘অবরোধ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। এর আগে মাসের পর মাস ধরে বড় বড় শহরে একই ধরনের ব্যাপক অভিযান চলেছিল।
গুলিচালনার ঘটনা দুটির তদন্ত নিয়ে শুরু থেকেই রাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, ফেডারেল কর্মকর্তাদের তদন্ত করার এখতিয়ার রাজ্যের প্রসিকিউটরদের নেই। অন্যদিকে মিনেসোটার কর্মকর্তারা বলছেন, ফেডারেল সরকার নিজেই নিজের তদন্ত করবে—এটা তাদের আস্থা নেই।
রাজ্য এখনো দুটি গুলিচালনার ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের সেলফোন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারের রেকর্ডিং পেতে চাইছে।
রাজ্যের প্রসিকিউটররা জুলাই মাসে জানিয়েছিলেন, ফেডারেল সরকার এই মামলাগুলোতে প্রমাণ হস্তান্তর শুরু করেছে—এর মধ্যে পুলিশের বডি ক্যামেরার ভিডিও ও বক্তব্যসংবলিত হার্ড ড্রাইভও ছিল। হেনেপিন কাউন্টির অ্যাটর্নি মেরি মরিয়ার্টি তখন বলেছিলেন, রাজ্য ‘সব প্রমাণ’ পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।
কিন্তু মিনেসোটার তদন্তকারীরা অক্টোবরে আদালতে দাখিল করা নথিতে বলেছেন, জুলাইয়ের ঘোষণার পরপরই প্রমাণ হস্তান্তর বন্ধ হয়ে যায়। মরিয়ার্টির ভাষ্য অনুযায়ী, মিনেসোটায় ফেডারেল প্রসিকিউটরদের কার্যালয়—ইউএস অ্যাটর্নির অফিস—গত ১০ সেপ্টেম্বর তাকে জানায়, ‘ডিসির সঙ্গে সমস্যার’ কারণে প্রমাণ ভাগ করা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। এখানে ডিসি বলতে ওয়াশিংটন ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে বোঝানো হয়েছে।
রাজ্যের প্রসিকিউটররা আবারও বিচারকের কাছে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে প্রমাণ হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের যুক্তি, রাজ্যের ফৌজদারি তদন্তে বাধা দেওয়ার পক্ষে ফেডারেল পক্ষ ‘কোনো আইনি ভিত্তি বা যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেনি’।
মঙ্গলবার দাখিল করা জবাবে মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, রাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য ভাগ না করার বিষয়টি তাদের বিবেচনাধীন ক্ষমতার মধ্যে পড়ে।
মিনেসোটা ব্যুরো অব ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশনের সুপারিনটেনডেন্ট ড্রু ইভান্স এক আইনি ঘোষণায় বলেছেন, ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে এখনো গুডের পোশাক, তাকে গুলি করা কর্মকর্তার সেলফোন ও সাক্ষাৎকারের রেকর্ডিং রয়ে গেছে, যা রাজ্য কর্তৃপক্ষ কখনোই দেখতে পায়নি। পথচারীদের ধারণ করা ফুটেজে গুডকে গাড়িতে ও প্রেত্তিকে রাস্তায় গুলি করে হত্যার দৃশ্য ধরা পড়ে; এসব ফুটেজ প্রশাসনের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হয়নি।
ইভান্স আরও বলেছেন, প্রেত্তিকে গুলি করা এক কর্মকর্তার রেকর্ড করা বক্তব্য, কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, তাদের ফোন, গুলি ও খোসাও ফেডারেল সরকার ভাগ করেনি। ফলে রাজ্যের তদন্ত কার্যত আটকে আছে, আর আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন সবার নজর।





